• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:০৪ পিএম


ফেসবুক পোস্ট শেয়ার করায় ঢাবিতে শিক্ষার্থীকে আট/কে নির্যা/তনের অভি/যোগ, প্রাধ্যক্ষের বিরু/দ্ধে বিক্ষো/ভ

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৭ আগস্ট ২০২৬ ১১:০৩ এএম

ফেসবুকে একটি পোস্ট শেয়ার করাকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফজলুল হক মুসলিম হলের এক শিক্ষার্থীকে হল প্রাধ্যক্ষের কক্ষে প্রায় দেড় ঘণ্টা আটকে রেখে ভয়ভীতি প্রদর্শন, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া এবং জোর করে লিখিত বক্তব্যে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ইলিয়াস আল মামুনের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের প্রতিবাদে তার পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন আবাসিক শিক্ষার্থীরা। তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন প্রাধ্যক্ষ।

রোববার (১৬ আগস্ট) রাত ৮টা থেকে হল প্রাধ্যক্ষের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সরবরাহ করতে হবে এবং প্রাধ্যক্ষকে পদত্যাগ করতে হবে। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের এই অবস্থান কর্মসূচি চলছিল।

অবস্থান কর্মসূচিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ইসতাফিল রতন, হলের হাউজ টিউটর, ডাকসুর ক্যারিয়ার সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম, পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ, সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের, সাহিত্য সম্পাদক মুসাদ্দিক, হল সংসদের নেতৃবৃন্দসহ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়। তাদের মধ্যে ছিল—‘মামুনের রক্ষা নাই, ১২৩৪; মামুন তুই গদি ছাড়’, ‘প্রক্টর না আশরাফুল, আশরাফুল আশরাফুল’, ‘দফা এক দাবি এক প্রভোস্টের পদত্যাগ’ এবং ‘এক দফা এক দাবি, মামুন তুই এখন যাবি’।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হলের এক আবাসিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, হলের প্রাধ্যক্ষ একজন শিক্ষার্থীকে রুমে ডেকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করেছেন। তার ভাষ্য, ওই শিক্ষার্থী ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের। শিক্ষার্থীরা এখন প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবি করছেন। পাশাপাশি ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের জন্য সন্ধ্যা থেকে অপেক্ষা করেও প্রশাসনের কাছ থেকে তা পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ফজলুল হক মুসলিম হলের জিএস বলেন, তারা চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা ধরে সিসিটিভি ফুটেজ দেখার জন্য অপেক্ষা করছেন। কিন্তু হল প্রশাসন ফুটেজ দেওয়ার বিষয়ে তালবাহানা করছে। তার ভাষ্য, এখন তাদের একমাত্র দাবি প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগ।

জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হলের বিভিন্ন বিষয়ে সমালোচনামূলক পোস্ট শেয়ার করার কারণে এক আবাসিক শিক্ষার্থীকে নিজের কার্যালয়ে ডেকে নেন প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ইলিয়াস আল মামুন। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে ওই শিক্ষার্থীকে প্রায় দেড় ঘণ্টা আটকে রেখে মানসিকভাবে হেনস্তা ও ভয়ভীতি দেখানো হয়। একই সঙ্গে তার মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া এবং জোরপূর্বক লিখিত বক্তব্যে স্বাক্ষর করানোরও অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগের শিকার শিক্ষার্থীর নাম মো. ইব্রাহীম। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোবটিক্স অ্যান্ড মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

তবে শিক্ষার্থীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন ফজলুল হক মুসলিম হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ইলিয়াস আল মামুন। তিনি বলেন, ‘দেড় ঘণ্টা মানসিক নির্যাতন কীভাবে করে? আর শারীরিক নির্যাতন—বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা ছেলেকে কি মারধর করা যায়? এটা কেমন কথা?’

/এসএন