যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান ছয় মাসের যুদ্ধে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীকে ‘হাঁটু গেড়ে বসতে’ বাধ্য করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) প্রধান আহমাদ ভাহিদি।
শনিবার প্রকাশিত এক বার্তায় উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি ও মিত্রদের অবকাঠামো লক্ষ্য করে চালানো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি এ দাবি করেন।
আহমাদ ভাহিদি বলেন, ইরানের সামরিক কার্যক্রম প্রমাণ করেছে যে বিশ্বকে শাসন ও নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা ইসলামের রয়েছে। একই সঙ্গে আইআরজিসি, ইরানের সেনাবাহিনী, পুলিশ ও বাসিজ বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি।
ইরানি এই কমান্ডার আরও দাবি করেন, তাদের সামরিক প্রতিরোধ বিশ্বের নিপীড়িত জনগণের সামনে ‘বিদ্রোহের দরজা’ খুলে দিয়েছে।
তবে আইআরজিসি প্রধানের এই বক্তব্যের সঙ্গে মার্কিন সামরিক মূল্যায়নের বিস্তর পার্থক্য রয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, চলমান সংঘাতে ইরানের নৌবাহিনীর একটি বড় অংশ পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে। পাশাপাশি দেশটির উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থাও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মার্কিন মূল্যায়নে আরও দাবি করা হয়েছে, যুদ্ধের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের রাজনৈতিক নেতৃত্বের একটি বড় অংশ নিহত হয়। তবে এত বড় ক্ষয়ক্ষতির পরও ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা এখনো টিকে রয়েছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ কৌশলগত হরমুজ প্রণালির আশপাশে যুক্তরাষ্ট্র তাদের বড় নৌবহর মোতায়েন রেখেছে। ফলে সংঘাতের শুরু থেকেই গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।
আহমাদ ভাহিদির এই বক্তব্য এমন এক সময়ে প্রকাশ্যে এলো, যখন দুই দেশের মধ্যে চলমান সংঘাতের পাশাপাশি যুদ্ধ বন্ধের জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে।
ইরানের রাজনৈতিক নেতৃত্ব যুদ্ধটিকে নিজেদের প্রতিরোধের বড় সাফল্য হিসেবে তুলে ধরলেও দেশটির সামরিক ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে মার্কিন মূল্যায়ন ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে। ফলে দুই পক্ষের বক্তব্যে যুদ্ধের বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে বড় ধরনের বৈপরীত্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
/এএসএফ