• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:২৯ এএম


যুক্তরাষ্ট্রকে তাড়ানোর পাঁচ বছর পর সেই আমেরিকাকেই বিনিয়োগের ডাক তালেবানের

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৬ আগস্ট ২০২৬ ৭:৫৬ এএম

যুক্তরাষ্ট্রকে আফগানিস্তান থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার দীর্ঘ পাঁচ বছর পর কাবুলে আবারও মার্কিন দূতাবাস চালু এবং দেশটিতে ব্যাপক মার্কিন বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছে তালেবান সরকার। এতদিন যুক্তরাষ্ট্র ও প্রতিবেশী পাকিস্তানকে ‘আমেরিকার দালাল’ বলে তীব্র সমালোচনা করা তালেবানের এমন অবস্থান পরিবর্তন আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে তালেবান সরকারের এই পরিবর্তিত অবস্থানের বিষয়টি উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, কাবুলে মার্কিন কূটনৈতিক উপস্থিতি ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোকে আফগানিস্তানের খনিজ সম্পদ ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো খাতে সরাসরি বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছে তালেবান।

নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আফগানিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকী বলেন, ‘আমরা যুদ্ধের অধ্যায় শেষ হয়েছে বলে মনে করি এবং এখন থেকে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ইতিবাচক সম্পর্কের এক নতুন সূচনা চাই।’

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে কাবুলে আবার দূতাবাস চালু করে কূটনৈতিক উপস্থিতি বজায় রাখতে পারে। একই সঙ্গে আফগানিস্তানের বিশাল খনিজ সম্পদ, বাঁধ ও সড়ক নির্মাণের মতো খাতেও যুক্তরাষ্ট্র বিনিয়োগ করতে পারে বলে জানান তিনি।

তালেবানের দাবি, আফগানিস্তানে শান্তি ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হয়েছে, প্রশাসনিক দুর্নীতি কমানো হয়েছে এবং বিদেশি বিনিয়োগের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। এসব বিষয়কে সামনে রেখে মার্কিন বিনিয়োগ আকর্ষণের চেষ্টা করছে কাবুল।

রাশিয়া, মধ্য এশিয়ার বিভিন্ন দেশ ও ইউরোপের কয়েকটি দেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের পর তালেবান এখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে। বিশ্লেষকদের মতে, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলের বাণিজ্যকেন্দ্রিক কূটনীতির সুযোগ কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে তালেবান সরকার।

তবে কাবুলের এমন আগ্রহের বিপরীতে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য আগ্রহ দেখা যায়নি। তালেবান সরকারের বিভিন্ন কঠোর নীতি, বিশেষ করে নারী অধিকারসংক্রান্ত অবস্থানের কারণে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়ে এখনো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

ফলে তালেবান সরকার যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ ও কূটনৈতিক উপস্থিতি ফিরিয়ে আনতে আগ্রহ দেখালেও দুই দেশের সম্পর্কের বরফ কতটা গলবে, তা এখনো অনিশ্চিত।

/এএসএফ