ইরান যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে মার্কিন রণতরীতে। টানা ২৫০ দিনেরও বেশি সময় ধরে সমুদ্রে অবস্থান করছে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’। এতে চরম খাদ্য সংকট, সুপেয় পানির অভাব, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার বিপর্যয় এবং নাবিকদের মারাত্মক মানসিক স্বাস্থ্য সংকট তৈরি হয়েছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ট্রাম্প প্রশাসন ও পেন্টাগনের কাছে জবাবদিহিতা দাবি করেছেন মার্কিন ডেমোক্রেট সিনেটর ও আইনপ্রণেতারা। জাহাজটিতে প্রায় পাঁচ হাজার সেনা ও কর্মকর্তা অবস্থান করছেন। বেশ কয়েকজন সদস্য সমুদ্রের পানিতে লাফ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন বলেও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এ খবর দিয়েছে বিবিসি অনলাইন।
মার্কিন সিনেটের সশস্ত্র বাহিনী কমিটির সদস্য ডেমোক্রেট সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেন্থাল পেন্টাগন প্রধান পিট হেগসেথকে এক চিঠিতে জাহাজটির স্যানিটেশন সমস্যা, পচা-বাসি খাবার সরবরাহ এবং লন্ড্রি ব্যবস্থা সচল না থাকার বিষয়গুলো তুলে ধরেন।
এ ছাড়া ডেমোক্রেটিক সিনেটর রুবেন গাল্লেগো ঘটনাটি সরেজমিনে তদন্তের জন্য কংগ্রেসের প্রতিনিধি দলকে যুদ্ধজাহাজে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার জোর দাবি জানান।
এক সেনাসদস্যের স্বজন জানান, দীর্ঘদিনের মানসিক চাপে ওই নাবিক প্রায় ২৯ কেজি ওজন হারিয়েছেন। প্রতিনিয়ত জাহাজের ইঞ্জিনের বিকট শব্দ ও শারীরিক ক্লান্তিতে তিনি চরম বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছেন বলেও জানান ওই স্বজন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি এক সেনাসদস্য পানিতে লাফ দিলে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ পরিস্থিতি অবনতির অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, খবরগুলো অতিরঞ্জিত করে তুলে ধরা হচ্ছে। তিনি জানান, যেকোনো কঠিন পরিস্থিতিতে মার্কিন সেনাদের পর্যাপ্ত সহায়তা দিতে সরকার প্রস্তুত রয়েছে।
নৌবাহিনীর পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে রসদ সরবরাহে সাময়িক ব্যাঘাত ঘটলেও খাদ্য ও পানীয় জলের ধারাবাহিক যোগান রাখা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে খুব শিগগিরই রণতরীটি বদল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সরকার। ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের জায়গায় ‘ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন’ স্থলাভিষিক্ত করা হবে বলে জানা গেছে।
/এএসএফ