• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০১:২৬ পিএম


পরপর ৩ জুমা নামাজ না পড়লে যে শাস্তির কথা এসেছে হাদিসে

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৪ আগস্ট ২০২৬ ২:২৭ পিএম

জুমার দিন মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ একটি দিন। শুক্রবারকে সপ্তাহের ঈদের দিন হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে। ইসলামে এ দিনের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। জুমার নামাজ আদায়ের যেমন রয়েছে বিশেষ ফজিলত, তেমনি ইচ্ছাকৃতভাবে তা ছেড়ে দেওয়ার ব্যাপারেও হাদিসে কঠোর সতর্কবার্তা এসেছে। এমনকি পরপর তিন জুমা নামাজ আদায় না করলে আল্লাহ তায়ালা ওই ব্যক্তির অন্তরে মোহর মেরে দেন বলে হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘হে মুমিনগণ! জুমার দিন যখন নামাজের আহ্বান জানানো হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণে (মসজিদে) এগিয়ে যাও এবং বেচাকেনা (দুনিয়াবি যাবতীয় কাজকর্ম ছেড়ে দাও। এটা তোমাদের জন্য কল্যাণকর; যদি তোমরা জানতে।’ (সুরা জুমা: ৯)।

জুমার দিনের মর্যাদা সম্পর্কে রাসুল (সা.) একটি হাদিসে বলেছেন, মুমিনের জন্য জুমার দিন হলো সাপ্তাহিক ঈদের দিন। (ইবনে মাজাহ: ১০৯৮)

জুমার দিনের বিভিন্ন আমল ও ফজিলত সম্পর্কেও একাধিক হাদিসে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে। আউস ইবনে আউস (রা.) বলেন, ‘আমি আল্লাহর রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন গোসল করাবে (জুমার নামাজের পূর্বে স্ত্রী-সহবাস করে তাকেও গোসল করাবে) এবং নিজেও গোসল করবে অথবা উত্তমরূপে গোসল করবে। এরপর ওয়াক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মসজিদে আসবে, আসার সময় হেঁটে আসবে, কোনো বাহনে চড়বে না, ইমামের কাছাকাছি বসবে, এরপর দুটি খুতবা মনোযোগ দিয়ে শুনবে এবং (খুতবার সময়) কোনো অনর্থক কাজকর্ম করবে না, সে মসজিদে আসার প্রতিটি পদক্ষেপে এক বছর নফল রোজা ও এক বছর নফল নামাজের সওয়াব পাবে।’ (আবু দাউদ: ৩৪৫)

তিন জুমা আদায় না করলে কী শাস্তি

জুমার নামাজের ফজিলতের পাশাপাশি তা ছেড়ে দেওয়ার ব্যাপারেও হাদিসে সতর্ক করা হয়েছে। বিশেষ করে কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে পরপর তিনটি জুমা নামাজ পরিত্যাগ করেন, তার জন্য কঠোর সতর্কবাণী রয়েছে।

এক হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃত পর পর তিন জুমা পরিত্যাগ করে, আল্লাহ তায়ালা তার অন্তরে মোহর মেরে দেন।’ (বুখারি: ১০৫২; তিরমিজি: ৫০২; মুসলিম: ১৯৯৯)

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত আরেক হাদিসে বলা হয়েছে, ‘রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি পর পর তিনটি জুমা পরিত্যাগ করবে, সে ইসলামকে পেছনের দিকে নিক্ষেপ করল।’ (মুসলিম)

তবে অপর এক হাদিসে রাসুল (সা.) জানিয়েছেন, চার শ্রেণির লোক ছাড়া জুমার নামাজ ত্যাগ করা কবিরা গোনাহ। ওই চার শ্রেণির মধ্যে ক্রীতদাস, স্ত্রীলোক, অপ্রাপ্তবয়স্ক বালক, মুসাফির ও রোগাক্রান্ত ব্যক্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। (আবু দাউদ)।

নামাজ মুসলমানদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হিসেবেও বিবেচিত। এ প্রসঙ্গে হজরত উমর (রা.) বলতেন, ‘নামাজ ত্যাগকারী নির্ঘাত কাফের।’ (বায়হাকি: ১৫৫৯, ৬২৯১)।

হজরত আলি (রা.)-এর বক্তব্যেও নামাজের গুরুত্ব স্পষ্ট হয়েছে। তিনি বলেন, ‘যে নামাজ পড়ে না সে কাফের।’ (বায়হাকি: ৬২৯১)।

নামাজ পরিত্যাগকারীর বিষয়ে কোরআন-সুন্নাহর দলিলগুলো থেকে বেনামাজি ব্যক্তির ব্যাপারে কঠোর সতর্কতার বিষয়টি জানা যায়। তাই জুমার নামাজসহ প্রতিটি ওয়াক্তের ফরজ নামাজের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।

/এসএন