• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৫৩ এএম


হরমুজ বন্ধ রেখে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ’ চালাচ্ছে ইরান

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৪ আগস্ট ২০২৬ ১:০৬ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক লড়াইয়ের বদলে ইরান মূলত কৌশলগত অর্থনৈতিক যুদ্ধ চালাচ্ছে এবং সেই লক্ষ্যেই হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার ব্যাপারে অনড় অবস্থান নিয়েছে বলে মনে করছেন সামরিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক জনবল বাড়ালেও দীর্ঘমেয়াদি এই ভূ-রাজনৈতিক অচলাবস্থা ক্রমেই দুই দেশের জন্যই এক কঠিন সংকটে রূপ নিচ্ছে।

তেহরানের ইউনিভার্সিটি অব অ্যাপ্লাইড সায়েন্সের অধ্যাপক মোস্তফা খোশচেশম বলেন, ইরান জানে যে যুক্তরাষ্ট্রকে পরাস্ত করতে হলে এটি অসম যুদ্ধ হতে হবে, আর এই অর্থনৈতিক যুদ্ধে হরমুজ প্রণালিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

অধ্যাপক খোশচেশম বলেন, ইরানের অবরুদ্ধ সম্পদ মুক্ত করা, লেবাননে ইসরায়েলের দখলদারত্বের অবসান, গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং সামুদ্রিক অবরোধ তুলে নেওয়ার বিষয়ে সমঝোতা স্মারকে যেসব শর্ত নির্ধারিত হয়েছিল, তা মানতে যুক্তরাষ্ট্রকে বাধ্য করতে হরমুজ প্রণালিকে চূড়ান্ত দরকষাকষির মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছে ইরান। একই সঙ্গে ইরান আশা করছে যে যুক্তরাষ্ট্র পরাজয় স্বীকার করে অঞ্চলটি ত্যাগ করবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইরান আক্রমণ একটি দীর্ঘ ভুল হিসাব ছিল এবং হরমুজ প্রণালিতে তাদের পদক্ষেপগুলো ছিল আরও বড় ধরনের ভুল হিসাব।

অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে স্বাভাবিকভাবে জাহাজ চলাচল করছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের করা দাবি খারিজ করে দিয়েছে ইরান সেনাবাহিনী। তাদের অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজই পার হতে পারবে না বলে দাবি করেছে তারা।

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের এই অচলাবস্থার মধ্যে রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের মাইকেল স্টিফেনস জানান, যুক্তরাষ্ট্র ভবিষ্যতের সম্ভাবনার জন্য নিজেদের প্রস্তুতি বাড়াচ্ছে। তিনি জানান, মার্কিন বিমানবাহিনীর সদস্যদের স্বজনদের মধ্যপ্রাচ্যে যাওয়ার ডাক পাওয়ার কথা অনেকে নিশ্চিত করেছেন।

স্টিফেনস বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে জনবল বাড়াচ্ছে, যা স্পষ্টতই বড় ধরনের প্রস্তুতির ইঙ্গিত দেয়। তবে এর উদ্দেশ্য এখনও অস্পষ্ট উল্লেখ করে তিনি বলেন, তার মূল্যায়ন হলো, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ইরানে আগ্রাসন চালিয়ে কোনো ধরনের জয় পাওয়ার আশা করতে পারে না।

পরিস্থিতিকে উভয় পক্ষের জন্যই কঠিন আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে কেউ জিতছে না; বরং পুরো পরিস্থিতি অচলাবস্থায় আটকে গেছে।

হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করতে ব্যর্থ হয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরাজয় স্বীকার না করেই এই সংঘাত শেষ করার পথ খুঁজছেন বলে মন্তব্য করেন অধ্যাপক মোস্তফা খোশচেশম। তিনি বলেন, বাস্তবে যাই ঘটুক না কেন, ট্রাম্প কখনোই বলবেন না যে তিনি পরাজিত হয়েছেন। তিনি বিজয়ের দাবি তুলে বের হয়ে যাওয়ার পথ খুঁজছেন, কিন্তু বারবার ব্যর্থ হচ্ছেন। শুধু যেসব জাহাজ ইরানি করিডোর ব্যবহার করছে, তারাই প্রণালিটি পার হতে পারছে; তাই ট্রাম্প এই যুদ্ধে অনেক আগেই ব্যর্থ হয়েছেন।

খোশচেশম আরও উল্লেখ করেন যে, ওয়াশিংটন ওই অঞ্চলের মার্কিন দূতাবাসগুলোকে সর্বনিম্ন সক্ষমতায় পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছে। এটি ইঙ্গিত দেয় যে আগামী সপ্তাহ বা মাসগুলোতে ট্রাম্প ইরানে বড় ধরনের হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছেন।

সূত্র: আল জাজিরা

/এএসএফ