রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলের বাইরে ভোট দিলে এমপির আসন যাবে কি না, জানাল ইসি
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যরা নিজ দলের প্রার্থীর বাইরে অন্য কাউকে ভোট দিলে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তাদের সংসদ সদস্যপদ থাকবে কি না—এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট জানান, দলের বাইরে ভোট দেওয়ার বিষয় বা এতে ৭০ অনুচ্ছেদ কার্যকর হওয়া না-হওয়া সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রশ্ন। এটি রাজনৈতিক নেতাদের বিষয় এবং নির্বাচনের কারিগরি ও আইনি পরিচালনা প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ের সামনে সংসদ সচিবালয় ও নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে একটি যৌথ প্রস্তুতিমূলক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ২০২৬-এর ভোট গ্রহণের সার্বিক বিষয় চূড়ান্ত করা হয়। আগামী ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে এই ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
সংসদ সদস্যরা তাদের নিজ নিজ আসনে অবস্থান করবেন এবং নির্বাচন কমিশনের সহায়ক কর্মকর্তারা তাদের কাছে সরাসরি ব্যালট পেপার পৌঁছে দেবেন। সংসদ সদস্যদের সুবিধার জন্য কক্ষে তিনটি স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স রাখা হবে।
সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয়, নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দল যেমন জামায়াতে ইসলামী বা বিএনপি পৃথক প্রার্থী মনোনীত করলে এবং কোনো সংসদ সদস্য নিজ দলের মনোনীত প্রার্থীর বাইরে অন্য কোনো প্রার্থীকে বা বিরোধী বলয়ের প্রার্থীকে ভোট দিলে সেই ভোট বৈধ হিসেবে গণ্য হবে কি না। একই সঙ্গে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তাদের আসন বাতিল বা অন্য কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সেটিও জানতে চাওয়া হয়।
এর জবাবে ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বা ক্রস ভোটিং সংক্রান্ত জটিলতা সম্পূর্ণই রাজনৈতিক নেতাদের বিষয়। এসব বিষয় রাজনৈতিক আলোচনার আওতাভুক্ত এবং নির্বাচনের কারিগরি ও আইনি পরিচালনা পদ্ধতির সঙ্গে এর কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই।
তিনি বলেন, কমিশনের মূল লক্ষ্য একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচন সম্পন্ন করা।
উল্লেখ্য, রাজনৈতিক দল থেকে পদত্যাগ বা দলের বিপক্ষে ভোটদানের কারণে সংসদ সদস্যের আসন শূন্য হওয়ার বিষয়ে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হয়ে কোনো ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে তিনি যদি ওই দল থেকে পদত্যাগ করেন অথবা সংসদে ওই দলের বিপক্ষে ভোট দেন, তাহলে সংসদে তার আসন শূন্য হবে। তবে এ কারণে তিনি পরবর্তী কোনো নির্বাচনে সংসদ সদস্য হওয়ার অযোগ্য হবেন না।
/এএসএফ