• ঢাকা
  • শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৫ পিএম


সাড়ে ছয় বছরে দেশে ১৬ হাজারের বেশি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা, নিহত ১৫ হাজার ৭১২

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৮ আগস্ট ২০২৬ ৬:০৭ পিএম

২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত দেশে মোট ১৬ হাজার ৬৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৫ হাজার ৭১২ জন এবং আহত হয়েছেন আরও ১৪ হাজার ১৪৩ জন। শনিবার (৮ আগস্ট) প্রকাশিত রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের মোটরসাইকেল দুর্ঘটনাবিষয়ক এক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৩ হাজার ৫৪৮টি বা ২২ দশমিক ০৮ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে মুখোমুখি সংঘর্ষে। মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঘটেছে ৫ হাজার ৪৯৭টি বা ৩৪ দশমিক ২১ শতাংশ দুর্ঘটনা। এছাড়া ভারী যানবাহনের ধাক্কায় ৬ হাজার ৩১৪টি বা ৩৯ দশমিক ৩০ শতাংশ এবং অন্যান্য কারণে ৭০৬টি বা ৪ দশমিক ৩৯ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

দুর্ঘটনার জন্য দায়ী যানবাহনের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোটরসাইকেল চালক এককভাবে দায়ী ৫ হাজার ৮৩১টি দুর্ঘটনার জন্য, যা মোট দুর্ঘটনার ৩৬ দশমিক ২৯ শতাংশ। পণ্যবাহী যানবাহনের কারণে ঘটেছে ৬ হাজার ৪৮১টি বা ৪০ দশমিক ৩৪ শতাংশ দুর্ঘটনা। এছাড়া বাসের কারণে ২ হাজার ১৬৪টি (১৩ দশমিক ৪৭ শতাংশ), থ্রি-হুইলারের কারণে ৭৩২টি (৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ), প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, অ্যাম্বুলেন্স ও জিপের কারণে ৪৩৮টি (২ দশমিক ৭২ শতাংশ), পথচারীর কারণে ২৯৬টি (১ দশমিক ৮৪ শতাংশ) এবং বাইসাইকেল ও রিকশার কারণে ১২৩টি (০ দশমিক ৭৬ শতাংশ) দুর্ঘটনা ঘটেছে।

সড়কের ধরন অনুযায়ী জাতীয় মহাসড়কে ৪ হাজার ৭৭৩টি বা ২৯ দশমিক ৭১ শতাংশ, আঞ্চলিক সড়কে ৬ হাজার ৬৮৯টি বা ৪১ দশমিক ৬৩ শতাংশ, গ্রামীণ সড়কে ১ হাজার ৯৫৭টি বা ১২ দশমিক ১৮ শতাংশ এবং শহরের সড়কে ২ হাজার ৬৪৬টি বা ১৬ দশমিক ৪৭ শতাংশ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আঞ্চলিক সড়কেই সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটছে।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্যমতে, দেশে নিবন্ধিত মোট মোটরযানের ৭১ শতাংশই মোটরসাইকেল। এর বড় অংশ কিশোর ও তরুণদের হাতে পরিচালিত হচ্ছে এবং তাদের মধ্যে বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালানোর প্রবণতা বাড়ছে। একই সঙ্গে মোটরসাইকেল উৎপাদন ও বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনের ভাষা ও উপস্থাপনাও অতিরিক্ত গতিতে বাইক চালাতে উৎসাহিত করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন বলছে, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের ৫৮ শতাংশের বয়স ১৩ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। এছাড়া চার চাকার যানবাহনের তুলনায় মোটরসাইকেল প্রায় ৩০ গুণ বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। তবে সহজলভ্য ও উন্নত গণপরিবহনের অভাব এবং তীব্র যানজটের কারণে মানুষ মোটরসাইকেল ব্যবহারে বেশি আগ্রহী হচ্ছেন, যার ফলে দুর্ঘটনার সংখ্যাও বাড়ছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, প্রাণহানি বৃদ্ধির অন্যতম কারণ মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার না করা। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, মানসম্পন্ন হেলমেট ব্যবহার করলে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ঝুঁকি প্রায় ৪৮ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশন মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার পেছনে কয়েকটি প্রধান কারণও চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে কিশোর ও যুবকদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো, ট্রাফিক আইন অমান্য করার প্রবণতা, রাজনীতিতে বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানোর সংস্কৃতি, ট্রাফিক আইনের দুর্বল প্রয়োগ, সচেতনতামূলক কার্যক্রমের অভাব, ত্রুটিপূর্ণ ও দুর্বল সড়ক অবকাঠামো, প্রযুক্তি ও নজরদারির ঘাটতি, সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী গণপরিবহনের অভাব এবং অসহনীয় যানজট।

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা কমাতে আট দফা সুপারিশও করেছে সংস্থাটি। এসব সুপারিশের মধ্যে রয়েছে মোটরসাইকেলে নিরাপত্তা ও নজরদারি প্রযুক্তির ব্যবহার, মানসম্মত হেলমেট বাধ্যতামূলক করা, ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক প্রচারণা, বিটিআরসির মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক প্রচার, মোটরসাইকেলের বিজ্ঞাপনের ভাষা ও উপস্থাপনায় পরিবর্তন, নিরাপদ সড়ক অবকাঠামো নির্মাণ এবং সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী গণপরিবহন চালু করা।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের মতে, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি কমাতে শুধু আইন প্রয়োগই যথেষ্ট নয়। পাশাপাশি তরুণদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নেও কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। তা না হলে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো কঠিন হবে।

/এসএন