• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১০:০৭ পিএম


এমপিদের বেতন ৫ লাখ, মন্ত্রীদের ১০ লাখ করার প্রস্তাব নুরুল হক নুরের

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৭ আগস্ট ২০২৬ ৯:২০ পিএম

দুর্নীতি কমানোর পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব পালনে আর্থিক সক্ষমতা নিশ্চিত করতে সংসদ সদস্যদের মাসিক বেতন ৫ লাখ টাকা এবং মন্ত্রীদের বেতন ১০ লাখ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী এবং গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ প্রস্তাব তুলে ধরেন।

নুরুল হক নুর বলেন, বর্তমানে একজন সংসদ সদস্যের মূল বেতন প্রায় ৫৫ হাজার টাকা। বিভিন্ন ভাতা যুক্ত হলে মোট প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা পান। মন্ত্রীদের বেতনও এর কাছাকাছি। তবে নির্বাচনী এলাকায় চিকিৎসা, শিক্ষা, খেলাধুলাসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে আর্থিক সহায়তা দিতে গিয়ে জনপ্রতিনিধিদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়। বাস্তবতার তুলনায় বর্তমান বেতন কাঠামো যথেষ্ট নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, যেসব জনপ্রতিনিধির ব্যক্তিগত সম্পদ নেই, তাদের জন্য এই বেতনে দায়িত্ব পালন করা কঠিন হয়ে পড়ে। এতে অনৈতিকভাবে অর্থ উপার্জন কিংবা দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই দুর্নীতি প্রতিরোধে জনপ্রতিনিধিদের জন্য বাস্তবসম্মত ও সম্মানজনক বেতন-ভাতার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

নুর আরও বলেন, জনগণের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত জনপ্রতিনিধিদের নিয়মিত নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় যেতে হয়। কিন্তু দেশের অনেক এলাকায় সড়কের অবস্থা ভালো নয়। ছোট গাড়িতে চলাচল করলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। আবার অনেক সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগতভাবে প্রাডো বা সমমানের নিরাপদ গাড়ি কেনার সামর্থ্যও থাকে না।

এ কারণে তিনি প্রস্তাব দেন, একজন সংসদ সদস্য দায়িত্বে থাকা পর্যন্ত সরকারের দেওয়া একটি গাড়ি ব্যবহার করবেন এবং মেয়াদ শেষ হলে সেটি সরকারি পরিবহন পুলে ফেরত দেবেন। সচিবসহ অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তাদের মতো এমপিদের জন্যও এমন সুবিধা থাকা উচিত বলে তিনি মত দেন।

এ সময় সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার উদাহরণ টেনে নুরুল হক নুর বলেন, দেশ দুটিতে সরকারি কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের বেতন বৃদ্ধি এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণের ফলে সুশাসন প্রতিষ্ঠা সহজ হয়েছে।

সরকারের সাম্প্রতিক কিছু পদক্ষেপের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সংসদ সদস্যদের করমুক্ত গাড়ি আমদানি ও প্লট বরাদ্দের মতো কিছু সুবিধা ইতোমধ্যে বাতিল করা হয়েছে। তবে দায়িত্ব পালনের সুবিধার্থে প্রতিটি সংসদ সদস্যকে একটি সরকারি গাড়ি বরাদ্দ দেওয়া যেতে পারে, যা পাঁচ বছর মেয়াদ শেষে সরকারি পরিবহন পুলে ফেরত দেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে নতুন পে-স্কেল নিয়েও কথা বলেন নুরুল হক নুর। তিনি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ঘোষিত নতুন পে-স্কেল দ্রুত বাস্তবায়নের আশা প্রকাশ করেন।

জনসেবার মানোন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ সরকারি দপ্তরে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হন। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিকতা এবং সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় ছাড়াই সরকারি সেবার মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করা সম্ভব।

প্রবাসীদের জন্য সরকারের নতুন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরে তিনি জানান, তাদের হয়রানি কমাতে সরকার শিগগিরই ‘প্রবাসী কার্ড’ চালু করবে। এ কার্ডধারীরা বিভিন্ন সরকারি সেবা গ্রহণে বিশেষ অগ্রাধিকার পাবেন।

/এসএন