সম্প্রতি বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভারতের শিক্ষা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম মুখ সোনাম ওয়াংচুক বলেছেন, সাম্প্রতিক আন্দোলনের ফলে দেশের তরুণদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। তারা এখন বিশ্বাস করতে শুরু করেছে যে, ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন করলে পরিবর্তন আনা সম্ভব।তিনি জানান, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া আন্দোলন পরে সারা ভারতে বড় ধরনের সরকারবিরোধী বিক্ষোভে রূপ নেয়। এই আন্দোলনের চাপের মুখেই ২৫ জুলাই ভারতের তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। ওয়াংচুকের ভাষায়, এই ঘটনাই প্রমাণ করে যে আন্দোলন সরকারের ওপর উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে।৫৯ বছর বয়সি ওয়াংচুক আন্দোলনের অংশ হিসেবে দিল্লিতে টানা ২৬ দিন অনশন করেন। এ সময় তিনি শুধু লবণ ও পানি গ্রহণ করেন। দীর্ঘ অনশনের কারণে তার ওজন ১১ কেজি কমে যায়। তিনি জানান, অনশনের শেষ ছয় দিন তাকে জোর করে হাসপাতালে রাখা হয়েছিল, যা তার কাছে কারাগারের মতো মনে হয়েছে।ওয়াংচুক বলেন, আন্দোলনের পর সরকার পরীক্ষা ব্যবস্থায় কিছু সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মামলার দ্রুত বিচার, পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের দায়িত্ব প্রযুক্তি খাতের একজন শীর্ষ উদ্যোক্তার হাতে তুলে দেওয়া এবং প্রশ্নফাঁসের কারণে আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ ঘোষণা।তবে তার মতে, এসব পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়। তিনি বলেন, ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থায় মৌলিক পরিবর্তন আনা জরুরি। বর্তমান পরীক্ষা পদ্ধতি মূলত মুখস্থনির্ভর ও বহু নির্বাচনী প্রশ্নভিত্তিক হওয়ায় শিক্ষার্থীদের বাস্তব দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের উপযোগিতা গড়ে উঠছে না।তিনি মনে করেন, শিক্ষা ও মূল্যায়ন পদ্ধতি এমন হওয়া উচিত, যা ভবিষ্যতের চাকরির বাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। এতে শিক্ষার্থীরা দক্ষ হয়ে উঠবে এবং দেশের বেকারত্ব সমস্যাও অনেকাংশে কমানো সম্ভব হবে।ওয়াংচুক আরও অভিযোগ করেন, আন্দোলনে অংশ নেওয়া বহু শিক্ষার্থী এখনো মামলা, পুলিশি হয়রানি এবং সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচারের শিকার হচ্ছেন। তবে তিনি উল্লেখ করেন, ভারতের সুপ্রিম কোর্ট প্রথমবারের মতো নির্দেশ দিয়েছে যে, যেসব আন্দোলনকারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে কিন্তু কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড নেই, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত নয়।তার দাবি, সরকারের দেরিতে পদক্ষেপ নেওয়ার কারণেই তরুণদের মধ্যে ঐক্য ও আত্মবিশ্বাস আরও শক্তিশালী হয়েছে। পাশাপাশি সাম্প্রতিক কয়েকটি উপনির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিজেপির পরাজয়ও এই পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, সরকার এখনো ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে নীতি পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে।রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই বলেও স্পষ্ট করেন সোনাম ওয়াংচুক। তিনি জানান, অহিংস আন্দোলনের মাধ্যমেই মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে চান। মহাত্মা গান্ধীর দর্শনে অনুপ্রাণিত হয়ে ভবিষ্যতেও প্রয়োজন হলে অনশনের মতো শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।
সূত্র: বিবিসি
/বিএসএস