• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:৪৫ এএম


বস্তি থেকে বহুতল ফ্ল্যাটে ৭৩০ পরিবার

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২ আগস্ট ২০২৬ ১১:১৭ পিএম

কক্সবাজারের খুরুশকুলে জলবায়ু উদ্বাস্তু ও বাস্তুচ্যুত মানুষের পুনর্বাসন প্রকল্পে আরও ৭৩০টি পরিবার আধুনিক বহুতল ভবনের ফ্ল্যাটে বসবাসের সুযোগ পাচ্ছে। রোববার (২ আগস্ট) জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রক্রিয়ায় লটারির মাধ্যমে এসব পরিবারের জন্য ভবন ও ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়া হয়।লটারিতে নিজের নাম দেখে আবেগাপ্লুত হন শারীরিক প্রতিবন্ধী পারভীন আক্তার। রিকশাচালক স্বামী মনিরুল আলম ও দুই সন্তানকে নিয়ে দীর্ঘদিন পলিথিনে মোড়ানো একটি ঝুপড়িঘরে মানবেতর জীবন কাটিয়েছেন তিনি। এখন তাদের নতুন ঠিকানা হবে খুরুশকুলের আধুনিক আবাসন প্রকল্পের একটি ফ্ল্যাট।পারভীন বলেন, “মনে হচ্ছে আমি এই মুহূর্তে পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ।”একই অনুভূতি জেলে রেজাউল করিমের পরিবারেরও। তিনি জানান, কোনোদিন বহুতল ভবনে থাকার স্বপ্নও দেখেননি। তালিকায় নিজের নাম দেখে প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারেননি।জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ এবং কক্সবাজার বিমানবন্দর সম্প্রসারণের কারণে সমিতিপাড়া এলাকা থেকে বাস্তুচ্যুত ভূমিহীন পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের তত্ত্বাবধানে ১ হাজার ৪৫৭ কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।২০২০ সালের ডিসেম্বরে শুরু হওয়া এই প্রকল্প দেশের অন্যতম বৃহৎ জলবায়ু-সহনশীল ও মানবিক আবাসন উদ্যোগ। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পের নির্মাণকাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।এই প্রকল্পের আওতায় মোট ৪ হাজার ১২৮টি পরিবারকে পুনর্বাসন করা হবে। এ জন্য নির্মাণ করা হচ্ছে ১২৯টি পাঁচতলা ভবন। প্রতিটি ভবনের চারটি আবাসিক তলায় ৮টি করে মোট ৩২টি ফ্ল্যাট রয়েছে।ইতোমধ্যে ১২২টি ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে এবং বাকি সাতটির কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এর আগে ১৯টি ভবনে ৬০০টি পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে। এবার আরও ৭৩০টি পরিবারের জন্য ভবন ও ফ্ল্যাট নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। অবশিষ্ট পরিবারগুলোকেও পর্যায়ক্রমে একই প্রক্রিয়ায় পুনর্বাসন করা হবে।প্রকল্পটিতে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই অবকাঠামো নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় পয়ঃশোধনাগার (এসটিপি), ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট, রিভার্স অসমোসিস প্ল্যান্ট, কনস্ট্রাক্টেড ওয়েটল্যান্ড, ফিল্ট্রেশন পন্ড, সোলার প্যানেল এবং রেইনওয়াটার হারভেস্টিং সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি সবুজায়ন ও বনায়ন কার্যক্রমও চলছে।নিরাপত্তা ও নাগরিক সুবিধার জন্য প্রকল্প এলাকায় আধুনিক সড়কবাতি, একটি মসজিদ, একটি মন্দির, একটি কমিউনিটি সেন্টার, চারটি সাইক্লোন শেল্টার এবং একটি মার্কেট কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হয়েছে বা হচ্ছে। এছাড়া নদীপথে যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়াতে দুটি জেটি নির্মাণের কাজও চলছে।প্রকল্প পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মিরাজুল ইসলাম বলেন, গুণগত মান বজায় রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রকল্পটি শেষ করতে তারা কাজ করছেন। তার ভাষায়, এটি শুধু আবাসন প্রকল্প নয়, বরং জলবায়ু উদ্বাস্তু পরিবারগুলোর জীবনে স্থায়িত্ব ও মর্যাদা ফিরিয়ে আনার একটি মানবিক উদ্যোগ।কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, যাচাই-বাছাই শেষে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে লটারি পরিচালনা করা হয়েছে, যাতে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ তাদের প্রাপ্য অধিকার পান। তিনি জানান, জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর সমন্বিতভাবে এসব পরিবারের পুনর্বাসনে কাজ করছে।কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান বলেন, প্রকল্প এলাকায় অপরাধ, মাদক, চুরি-ছিনতাই বা সামাজিক বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে জেলা পুলিশ নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করবে।লটারি অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ইমরান হোসাইন সজীব, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মশিউর রহমানসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

/বিএসএস