• ঢাকা
  • রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৩০ এএম


যমজ কনে, যমজ বর, যমজ পুরোহিত—যমজদের মিলনমেলায় ‘ঐতিহাসিক’ বিয়ের সাক্ষী হলেন অতিথিরা

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১ আগস্ট ২০২৬ ৫:০৬ পিএম

কিছু বিয়ে স্মরণীয় হয়ে থাকে জাঁকজমকপূর্ণ সাজসজ্জা বা আড়ম্বরপূর্ণ আয়োজনের জন্য। আবার কিছু বিয়ে ইতিহাসে জায়গা করে নেয় সম্পূর্ণ ভিন্ন কারণে। ভারতের কেরালার চঙ্গনাচেরিতে অনুষ্ঠিত এমনই এক বিয়েতে প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় ছিলেন একজোড়া করে যমজ, যা উপস্থিত অতিথিদের জন্য হয়ে উঠেছে এক বিরল অভিজ্ঞতা।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) কেরালার চঙ্গনাচেরির মেট্রোপলিটন চার্চে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হলে আখিল কে থমাস হাত ধরেন ম্যাগি মেরির। একই সময়ে আখিলের যমজ ভাই নিখিল কে থমাস দাঁড়ান ম্যাগির যমজ বোন মারিয়া মেরির পাশে।

অনুষ্ঠানটি আরও ব্যতিক্রমী হয়ে ওঠে যখন দুই যমজ পুরোহিত একসঙ্গে বিয়ের ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা পরিচালনা করেন। শুধু তাই নয়, বেদিতে তাদের সহকারী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন আরও একজোড়া যমজ কিশোর।

দুই পরিবারের জন্য এটি কেবল একটি বিয়ে ছিল না; বরং বহু বছর ধরে লালিত একটি স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেওয়ার মুহূর্ত।

জানা গেছে, কেরালার চঙ্গনাচেরির ভেট্টুপারামবিল এলাকার বাসিন্দা কুঞ্জুমন থমাস ও জোমোলের যমজ ছেলে আখিল ও নিখিল। অন্যদিকে, পাঠানমথিট্টা জেলার কুলাথুরের কুম্বুলুভেলিল এলাকার টমিচান ও মেরিকুটির যমজ কন্যা ম্যাগি ও মারিয়া।

বিয়ের অন্যতম আকর্ষণ ছিলেন যমজ পুরোহিত ফাদার অ্যান্টো পেঝুমকাট্টিল ও ফাদার আজো পেঝুমকাট্টিল, যারা কাঞ্জিরাপল্লী ডায়োসিসের সদস্য। আর তাদের সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন যমজ দুই ভাই জেরন জেমস ও জোহন জেমস।

এই আয়োজন মোটেই আকস্মিক ছিল না। কনেরা শুরু থেকেই যমজ পুরোহিত খুঁজছিলেন। পরে যমজদের বিশেষ সমাবেশের জন্য পরিচিত কোঠানাল্লুরের একটি গির্জার মাধ্যমে তারা ওই দুই যমজ পুরোহিতের সন্ধান পান।

যমজ দুই বোন জানান, যমজ মানুষদের ঘিরে বিয়ের আয়োজন করা ছিল তাদের ছোটবেলার স্বপ্ন। তাদের ভাষায়, “আমাদের মা-বাবা ও পরিবারের সবাই এটিই চেয়েছিলেন। যীশুখ্রিস্ট আমাদের সেই স্বপ্ন পূরণ করেছেন। আমরা যখন ফাদারদের নিমন্ত্রণ জানাই, তারা সঙ্গে সঙ্গেই রাজি হন।”

বিয়ে সম্পন্ন করার পর যমজ পুরোহিতরাও নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তারা বলেন, “যমজদের বিয়ে পড়ানো আমাদের জন্য অত্যন্ত বিশেষ একটি অভিজ্ঞতা। এটি আজীবন মনে রাখার মতো একটি স্মৃতি। এ ধরনের মুহূর্ত ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ্যের বন্ধনের কথাই মনে করিয়ে দেয়।”

নিজেদের জীবন নিয়েও স্মৃতিচারণ করেন তারা। তাদের ভাষায়, “ওরা যেমন একসঙ্গে জন্মেছে এবং একসঙ্গে নতুন জীবনে পা রাখছে, আমরাও একইভাবে একসঙ্গে যাজকত্বে দীক্ষিত হয়েছিলাম। এটি সত্যিই দারুণ এক অনুভূতি।”

পেশাগত জীবনে আখিল ও নিখিল দুজনই মার্চেন্ট নেভিতে কর্মরত। অন্যদিকে, ম্যাগি ও মারিয়া তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কাজ করছেন।

অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা জানান, এই বিয়ে শুধু ব্যতিক্রমী আয়োজনের জন্য নয়, বরং বিশেষ সম্পর্কের সৌন্দর্য ও পারিবারিক বন্ধনের এক অনন্য উদাহরণ হিসেবেও দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

/এসএন