যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর অবস্থান করা হোটেলের সামনে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভকারীরা বিক্ষোভ করেছেন। বিক্ষোভের সময় নেতানিয়াহু হোটেলটির ভেতরে রাতের খাবার খাচ্ছিলেন।
গত সোমবার জর্জটাউনের ফোর সিজনস হোটেলের লবিতে কয়েকজন বিক্ষোভকারী ঢুকে পড়লে সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিক্ষোভকারীরা ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী যে রেস্তোরাঁয় নৈশভোজ করছিলেন, সেদিকে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত হোটেলে নিরাপত্তারক্ষী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পৌঁছান। পরে তাঁরা বিক্ষোভকারীদের ভবন থেকে বের করে দেন। এ সময় ভবন থেকে বের করে দেওয়ার সময় বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দিতে থাকেন, ‘বিবি, বিবি, তুমি লুকাতে পারো না। তুমি জাতিগত নিধন চালাচ্ছ।’
নেতানিয়াহুর ওয়াশিংটন সফরকে ঘিরে হোটেলটিতে কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যেই এ ঘটনা ঘটে। সফরকালে নেতানিয়াহু সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ ছাড়া জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গেও তাঁর বৈঠক করার কথা রয়েছে।
হোটেলের সামনে বিক্ষোভের পরপরই ওয়াশিংটনের বিভিন্ন সড়কে বিক্ষোভ শুরু হয়। শত শত বিক্ষোভকারী মিছিল নিয়ে হোয়াইট হাউস ও সরকারের অন্যান্য প্রশাসনিক ভবনের দিকে এগিয়ে যান।
বিক্ষোভকারীরা ফিলিস্তিনের পতাকা ওড়ানোর পাশাপাশি ড্রাম ও বালতি বাজিয়ে প্রতিবাদ জানান। নেতানিয়াহুর ওয়াশিংটন সফরের বিরোধিতা করে তাঁদের হাতে বিভিন্ন ব্যানারও দেখা যায়। মেগাফোন ব্যবহার করে তাঁরা নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেন।
বিক্ষোভকারীরা সফররত ইসরায়েলি নেতার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করার জন্য মার্কিন সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনেরও তীব্র প্রতিবাদ করেন তাঁরা।
এক বিক্ষোভকারী বলেন, ‘বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু একজন যুদ্ধাপরাধী। তাঁর একমাত্র জায়গা হলো আইসিসির কারাগার। এ জন্য তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি হয়েছে। আমি চাই না আমার ট্যাক্সের (করের) অর্থে এ ধরনের কাউকে রক্ষা করা হোক।’
আরেক বিক্ষোভকারী বলেন, ‘আমরা দাবি জানাচ্ছি, মার্কিন সরকার যেন আইসিসির পরোয়ানা অনুসরণ করে এবং নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করে আইসিসির হাতে তুলে দেয়। যাতে ফিলিস্তিনিদের ওপর পরিকল্পিত জাতিগত নিধন চালানোর অভিযোগে তাঁর বিচার করা যায়।’
ওয়াশিংটনের ওই এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সিক্রেট সার্ভিসের বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন ছিলেন। এর মধ্যেও বিক্ষোভকারীরা ‘মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধযন্ত্র বন্ধ করো’ এবং ‘ওয়াশিংটনের ওপর ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ ফাঁস করো’ লেখা ব্যানার প্রদর্শন করেন।