• ঢাকা
  • রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৩০ এএম


সৌদির নেতৃত্বে নতুন সামুদ্রিক জোটে বাংলাদেশ, নিরাপত্তায় একসঙ্গে ১৪ দেশ

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৩১ জুলাই ২০২৬ ৫:২৩ এএম

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিরাপত্তা জোরদারে নতুন একটি বহুজাতিক সমুদ্র প্রতিরক্ষা জোট গঠন করেছে সৌদি আরব। মাল্টিন্যাশনাল মেরিটাইম ডিফেন্স অ্যালায়েন্স নামে গঠিত এই জোটে বাংলাদেশসহ মোট ১৪টি দেশ যোগ দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন এই জোটের প্রধান লক্ষ্য বাব আল-মান্দেব প্রণালি, লোহিত সাগর (রেড সি) এবং গালফ অব এডেনে নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করা। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এসব নৌপথের নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে সদস্য দেশগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করবে।

জোটের সদস্য দেশগুলো হলো—বাংলাদেশ, সৌদি আরব, তুরস্ক, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, জর্ডান, মিসর, পাকিস্তান, জিবুতি, সোমালিয়া, ইয়েমেন, সুদান ও কোমোরোস।

সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সমুদ্র নিরাপত্তাকে সদস্য দেশগুলো যৌথ দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করছে। এ কারণে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, সমন্বিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা, যৌথ সামরিক মহড়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সমুদ্রে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হবে।

তবে সৌদি আরব স্পষ্ট করেছে, এই জোট সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক এবং কোনো নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে গঠন করা হয়নি। ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে অন্য দেশও চাইলে এই জোটে যোগ দিতে পারবে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা এবং ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলার কারণে লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এসব হামলার ফলে এই নৌপথ দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলো ঝুঁকির মুখে পড়েছে, যার প্রভাব পড়তে পারে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায়।

বিশ্বের মোট সামুদ্রিক বাণিজ্যের প্রায় ১০ থেকে ১২ শতাংশ এবং প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল এই নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে এ অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা তৈরি হলে বিশ্বব্যাপী সরবরাহ ব্যবস্থা ও জ্বালানির বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সৌদি আরব জানিয়েছে, নতুন এই বহুজাতিক জোটের সদর দপ্তর দেশটিতেই স্থাপন করা হবে। তবে সদস্য দেশগুলো কী পরিমাণ সামরিক সক্ষমতা, যুদ্ধজাহাজ বা বিমান এতে যুক্ত করবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

সূত্র: আল-জাজিরা

/এএসএফ