ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় আলিম পরীক্ষা চলাকালে পরীক্ষার্থীদের নকল সরবরাহের অভিযোগে এক মাদরাসা শিক্ষককে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই ঘটনায় নকল করার দায়ে পাঁচ পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এছাড়া দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে দুই কক্ষ পরিদর্শককে চলমান আলিম পরীক্ষার সব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৭ জুলাই) সকালে উপজেলার কসবা মহিলা ডিগ্রি কলেজ আলিম পরীক্ষা কেন্দ্রে ইসলামের ইতিহাস বিষয়ের পরীক্ষা চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তানজিল কবির।
দণ্ডপ্রাপ্ত শিক্ষক মো. মনিরুল ইসলাম আখাউড়া উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের রানিখার এমদাদুল বারী মাদরাসার শিক্ষক।
উপজেলা প্রশাসন ও কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, আলিম পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্রের ৩০১ নম্বর কক্ষে পাঁচ পরীক্ষার্থীকে নকল সরবরাহের অভিযোগ ওঠে মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। পরে কেন্দ্রে স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। এরপর ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।
একই ঘটনায় শিক্ষকের সহায়তায় নকল করার দায়ে পাঁচ পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষার হল থেকে বহিষ্কার করা হয়। পাশাপাশি দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ৩০১ নম্বর কক্ষের পরিদর্শক আড়াইবাড়ী কামিল মাদরাসার শিক্ষক আফসানা আক্তার এবং মো. বাকিবিল্লাহকে চলমান আলিম পরীক্ষার সব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাওলানা আমিনুল ইসলাম বলেন, নকল সরবরাহের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে কারাদণ্ড দিয়েছেন। একই সঙ্গে পাঁচ পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার এবং দায়িত্বে থাকা দুই শিক্ষককে পরীক্ষা-সংক্রান্ত সব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. তানজিল কবির বলেন, সিসিটিভি ফুটেজে অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। তাই আইন অনুযায়ী অভিযুক্ত শিক্ষককে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, পরীক্ষায় কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না এবং অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।
/এএসএফ