• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:১২ এএম


ট্রাম্পের আলোচনার প্রস্তাব নাকচ করল ইরান, স্থলযুদ্ধের হুঁশিয়ারি!

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৬ জুলাই ২০২৬ ৭:৪৩ এএম

ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ক্রমেই আন্তরিক হচ্ছে—মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবও ফিরিয়ে দিয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

ইরানি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্য অনুযায়ী, দেশটির এক সামরিক কর্মকর্তা বলেন, বর্তমান সংঘাত দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্র স্থলবাহিনী নিয়ে যুদ্ধে জড়ালে ইরান সরাসরি তার মোকাবিলা করতে প্রস্তুত। তিনি দাবি করেন, তাদের লক্ষ্য ক্ষয়িষ্ণু যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া এবং প্রয়োজন হলে স্থলযুদ্ধেও অংশ নেওয়া।

এর আগে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা চলছে এবং তেহরান আগের তুলনায় বেশি আন্তরিক মনোভাব দেখাচ্ছে। তবে তার মতে, ইরান এখনো চূড়ান্তভাবে কোনো চুক্তির জন্য প্রস্তুত নয়।

অন্যদিকে, দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ট্রাম্পের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতির একটি প্রস্তাব ইরাকে সফররত দেশটির প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জায়িদির মাধ্যমে তেহরানে পাঠানো হয়েছিল। তবে ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানায়, এমন কোনো প্রস্তাব তারা বহন করেনি এবং ওই প্রতিবেদন বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইরানের কর্মকর্তারা কোনো অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে আগ্রহী নন, বিশেষ করে যদি হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি অস্পষ্ট থাকে।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে যোগাযোগের জন্য মধ্যস্থতাকারীর অভাব নেই। তার দাবি, মূল সমস্যা বার্তা আদান-প্রদানে নয়; বরং যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গিতে।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা বেড়েই চলেছে। মার্কিন বাহিনীর হামলার জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায় ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও অবকাঠামোগত স্থাপনায় হামলা অব্যাহত রেখেছে।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) সতর্ক করে জানিয়েছে, যে দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিকভাবে সহায়তা করবে, তাদেরও সম্ভাব্য পরিণতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। অন্যদিকে যুক্তরাজ্য জানিয়েছে, তারা নিজেদের প্রতিরক্ষার জন্য প্রস্তুত থাকলেও সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়নি।

/এএসএফ