• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:৫৯ এএম


শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর সরকার পত/নের ডাক রাহুল গান্ধীর

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৫ জুলাই ২০২৬ ১১:৩৩ পিএম

কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর ভারতের লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এখন এই সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানোর সময় এসেছে। এ তথ্য জানিয়েছে হিন্দুস্তান টাইমস।

শনিবার (২৫ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে রাহুল গান্ধী বলেন, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে নতুনভাবে গড়ে তোলার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। একই সঙ্গে তিনি দেশজুড়ে আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানান।

তবে রাহুলের দাবি, আন্দোলনের এখনও দুটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি পূরণ হয়নি। তার মতে, শিক্ষার্থী ও দেশের ভবিষ্যতের প্রতি সম্মান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ক্ষমা চাইতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ওপর সহিংসতার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।

এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি আরও বলেন, সমাজের কৃষক, শ্রমিক এবং দরিদ্র মানুষসহ যাদের ওপর এই সরকার দমন-পীড়ন চালিয়েছে, তাদের এখন সংবিধানসম্মত উপায়ে সাহসের সঙ্গে নিজেদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় এগিয়ে আসার সময়। তিনি লেখেন, “এই সরকারকে সরানোর সময় এসেছে। ভয় পাবেন না।”

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা শিক্ষার্থী আন্দোলনের মুখে শনিবার কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। প্রশ্নফাঁস এবং বিভিন্ন পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই আন্দোলনে তার পদত্যাগ ছিল আন্দোলনকারীদের অন্যতম প্রধান দাবি।

নিজের পদত্যাগপত্রে ধর্মেন্দ্র প্রধান উল্লেখ করেন, দেশের ঐক্য অটুট রাখা, শিক্ষার্থীদের আইনি জটিলতা থেকে দূরে রাখা এবং তাদের পড়াশোনা ও ভবিষ্যতের স্বার্থ বিবেচনা করেই তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এর আগে শুক্রবার আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিনিধিরা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সরকার একদিন সময় চেয়েছে।

ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর যন্তর-মন্তরে আয়োজিত সমাবেশে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপ প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, “তিনি আমাদের ‘তেলাপোকা’ না বললে এই আন্দোলনের জন্মই হতো না।”

প্রসঙ্গত, গত মে মাসে এক শুনানির সময় প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্যকে ঘিরেই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামের এই আন্দোলনের সূচনা হয়। পরে প্রধান বিচারপতি ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, তার মন্তব্যটি বেকার তরুণদের উদ্দেশে নয়, বরং ভুয়া আইন ডিগ্রিধারীদের প্রসঙ্গে করা হয়েছিল। তবে এরই মধ্যে মন্তব্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং আন্দোলনের প্রতীকে পরিণত হয়।

/এসএন