• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩৪ এএম


জলাবদ্ধতায় এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার ঘটনায় কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ৭ শিক্ষক বদলি

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৪ জুলাই ২০২৬ ৭:৩১ পিএম

জলাবদ্ধ পরিবেশে চরম অব্যবস্থাপনার মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা আয়োজনের ঘটনায় দেশজুড়ে সমালোচনার পর কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের সাতজন শিক্ষককে বদলি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। কলেজটির ইতিহাসে একসঙ্গে এতসংখ্যক শিক্ষকের বদলির ঘটনা এটিই প্রথম।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সরকারি কলেজ-২ শাখার উপসচিব মো. আ. কুদ্দুসের স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই বদলির আদেশ জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষ এ কে এম জহিরুল আলমকে চৌদ্দগ্রামের চিওড়া সরকারি কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে বদলি করা হয়েছে। গণিত বিভাগের অধ্যাপক মো. আবদুল মালেককে কক্সবাজার সরকারি কলেজে, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কনক বড়ুয়াকে নোয়াখালীর হাতিয়া দ্বীপ সরকারি কলেজে, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ উল্লাহ মজুমদারকে লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজে, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নূর মোহাম্মদ নূর উল্লাহকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর সরকারি কলেজে, হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মো. আল-আমিনকে সিলেটের বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজে এবং ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মহসীনকে বরগুনা সরকারি কলেজে বদলি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বদলিকৃত শিক্ষকদের আগামী ২৯ জুলাইয়ের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হতে হবে।

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, উপাধ্যক্ষ এ কে এম জহিরুল আলম সরাসরি পরীক্ষা পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন না। এছাড়া গণিত বিভাগের অধ্যাপক মো. আবদুল মালেক জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের অনীহার কারণে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পালন করছিলেন। উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কনক বড়ুয়া পরীক্ষা কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্বে ছিলেন এবং ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মহসীন ছিলেন শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক।

উল্লেখ্য, গত ১৩ জুলাই ভারী বর্ষণের কারণে কুমিল্লা শহরের পাশাপাশি সরকারি মহিলা কলেজের ক্যাম্পাসও পানিতে তলিয়ে যায়। জলাবদ্ধ অবস্থার মধ্যেই এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা দিতে হওয়ায় তারা চরম দুর্ভোগে পড়েন। পরে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু ডিঙি নৌকার ব্যবস্থা করে পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে পৌঁছে দেন।

নৌকায় চড়ে পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে যাওয়ার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা দ্রুত ভাইরাল হয়। বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এ ঘটনার জেরে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখেও পড়েন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

এরপর গত ১৮ জুলাই কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী কলেজটি পরিদর্শনে যান। পরিদর্শনকালে তিনি কলেজের জলাবদ্ধতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ জানিয়ে কলেজের শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠকে বলেন, এ ঘটনার কারণে সরকার ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।

শিক্ষকদের বদলির বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের এক কর্মকর্তা ঢাকা পোস্টকে বলেন, মন্ত্রণালয় চাইলে যে কোনো সময় যে কাউকে বদলি করতে পারে এবং এটি নিয়মিত বদলিরই অংশ। একসঙ্গে এতজন শিক্ষকের বদলি শাস্তিমূলক কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ই ভালো বলতে পারবে। এর বেশি কোনো মন্তব্য করতে তিনি রাজি হননি।

/এসএন