নিজের ধানের জমি দান করে মসজিদ গড়লেন কৃষক, আজ সেই মসজিদই অবহেলিত
একটি গ্রামের এক প্রান্তে ছিল এক কৃষকের ছোট্ট ধানের জমি। বছরের পর বছর সেই জমির ফসল বিক্রি করেই তিনি সংসার চালিয়েছেন এবং পরিবারের প্রয়োজন মিটিয়েছেন। কিন্তু গ্রামের মানুষের একটি কষ্ট তাঁকে সবসময় ভাবিয়ে তুলত। আশপাশে কোনো মসজিদ না থাকায় বৃদ্ধ, শিশু ও মুসল্লিদের নামাজ আদায়ের জন্য দূরের পথে যেতে হতো।
গ্রামবাসীর এই দুর্ভোগ দূর করতে একসময় নিজের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ থেকেই পাঁচ শতক জমি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে দান করেন ওই কৃষক। তাঁর দান করা জমিতেই গ্রামের মানুষের সহযোগিতায় নির্মিত হয় একটি মসজিদ। নির্মাণের পর আজানের ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা এবং স্থানীয়দের ধর্মীয় চর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায় মসজিদটি।
তবে সময়ের ব্যবধানে সেই মসজিদের চিত্র বদলে গেছে। নিয়মিত পরিচর্যার অভাব, প্রয়োজনীয় সংস্কার না হওয়া এবং মুসল্লির সংখ্যা কমে যাওয়ায় মসজিদটি এখন অনেকটাই অবহেলিত। যে মানুষটি নিজের পরিবারের ভবিষ্যতের কথা না ভেবে আল্লাহর ঘর নির্মাণের জন্য জমি দান করেছিলেন, তাঁর সেই মহান ত্যাগের স্মৃতিও যেন ধীরে ধীরে বিস্মৃত হতে বসেছে।
স্থানীয়দের মতে, একটি মসজিদ শুধু নামাজ আদায়ের স্থান নয়; এটি একটি গ্রামের ধর্মীয়, সামাজিক ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতীক। তাই এমন মহৎ দান ও ত্যাগের যথাযথ মর্যাদা রক্ষায় মসজিদটির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচর্যায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।