• ঢাকা
  • বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১৫ এএম


সরকারি নির্দেশেই দিল্লিতে সাময়িক ইন্টারনেট বন্ধ, দাবি টেলিকম সংস্থাগুলোর

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২২ জুলাই ২০২৬ ১০:১৯ পিএম

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিন একটি রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সাময়িকভাবে মোবাইল ইন্টারনেট সেবা সীমিত করা হয়েছিল বলে দাবি করেছে কয়েকটি টেলিকম প্রতিষ্ঠান। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি আদেশ প্রকাশ্যে আনা হয়নি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিকে ঘিরে এয়ারটেল, জিও ও ভি (Vi)-সহ কয়েকটি টেলিকম কোম্পানিকে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা নিয়ন্ত্রণের নির্দেশ দেওয়া হয়।

দুটি শীর্ষ টেলিকম প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা সরকারি নির্দেশ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যা ৬টার দিকে মোবাইল ইন্টারনেট সেবা আবার স্বাভাবিক করা হয়।

তবে ঠিক কোন সরকারি সংস্থা বা কর্তৃপক্ষ এই নির্দেশ দিয়েছে, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিক থেকেই তারা মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারে সমস্যার সম্মুখীন হন।

ঘটনাটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ডিজিটাল অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন ইন্টারনেট ফ্রিডম ফাউন্ডেশন (IFF)। সংগঠনটির দাবি, ভারতের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী ইন্টারনেট পরিষেবা স্থগিতের প্রতিটি আদেশ প্রকাশ করতে হবে, সেই সিদ্ধান্তের কারণ জানাতে হবে এবং আরোপিত বিধিনিষেধ প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।

IFF আরও বলেছে, সরকারি আদেশ প্রকাশ না করা হলে সেটির আইনগত বৈধতা যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়ে। সংগঠনটি ‘অনুরাধা ভাসিন বনাম ভারত সরকার’ মামলার রায় এবং টেলিকম পরিষেবা স্থগিত সংক্রান্ত বিদ্যমান বিধিমালার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেছে, এ ধরনের সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।

সংগঠনটির মতে, কোনো আদেশ গোপন রাখা হলে সেটিকে আদালতে চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ সীমিত হয়ে যায়। একই সঙ্গে বিচারিক পর্যালোচনার স্বাভাবিক প্রক্রিয়াও বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

ভারতে এর আগেও বিভিন্ন আন্দোলন ও বিক্ষোভের সময় মোবাইল ইন্টারনেট সেবা সীমিত করার ঘটনা ঘটেছে। IFF-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনবিরোধী আন্দোলনের সময় দিল্লির জামিয়া নগর, সিলমপুর এবং মান্ডি হাউস এলাকায় মোবাইল সেবা বন্ধ রাখা হয়েছিল। এছাড়া ২০২১ সালে কৃষক আন্দোলনের সময়ও দিল্লির কয়েকটি সীমান্ত এলাকায় একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

হ্যাশট্যাগ কিপইটঅন (#KeepItOn) জোটের একটি প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে IFF জানিয়েছে, ২০২৫ সালে ভারতে ৬৫টি ইন্টারনেট বন্ধের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। সংগঠনটির দাবি, বিশ্বজুড়ে নথিভুক্ত ইন্টারনেট বিভ্রাটের ঘটনাগুলোর মধ্যে ভারতের অংশ উল্লেখযোগ্য।

তবে দিল্লির সাম্প্রতিক ইন্টারনেট সীমাবদ্ধতার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত কোনো বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয়নি।

/এসএন