• ঢাকা
  • বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫৯ এএম


দিল্লির জেনজি আন্দোলন কি সরকার পতনের দিকে?

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২২ জুলাই ২০২৬ ১০:০৩ পিএম

দক্ষিণ এশিয়ায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাজপথের আন্দোলনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের ঘটনাগুলোর সঙ্গে ভারতের চলমান আন্দোলনের মিল খুঁজে বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছে স্ক্রল.ইন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ সালে শ্রীলঙ্কা, ২০২৪ সালে বাংলাদেশ এবং ২০২৫ সালে নেপালের পর এবার ভারতের রাজধানী দিল্লিও বড় ধরনের আন্দোলনের মুখোমুখি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিট (NEET) পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামে পরিচিত একটি ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলন গত এক সপ্তাহে হাজারো মানুষকে রাজপথে নিয়ে এসেছে।

স্ক্রল.ইনের বিশ্লেষণে দক্ষিণ এশিয়ায় সরকারবিরোধী গণআন্দোলন তীব্র হওয়ার পেছনে চারটি প্রধান কারণ তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের মধ্যে বৈষম্য। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ভারতে প্রতি বছর প্রায় ৫০ লাখ গ্র্যাজুয়েট বের হলেও চাকরি পান প্রায় ২৮ লাখ। ২০ থেকে ২৯ বছর বয়সী বেকারদের মধ্যে স্নাতকদের হারও গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত মে মাসের নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় প্রায় ২২ লাখ ৭০ হাজার পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। গত পাঁচ বছরে ভারতের ১৬টি রাজ্যে ৪৮টি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে, যার প্রভাব পড়েছে প্রায় দেড় কোটি চাকরিপ্রার্থীর ওপর।

বিশ্লেষণে আরও দাবি করা হয়েছে, অভিযোগ নিষ্পত্তিতে বিলম্ব, প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আস্থার সংকট এবং আন্দোলন দমনে প্রশাসনিক পদক্ষেপ মানুষের ক্ষোভ আরও বাড়িয়েছে। আন্দোলনের সংগঠকদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট ব্লক, পদযাত্রায় বাধা, ইন্টারনেট সেবা বন্ধ এবং পুলিশি লাঠিচার্জের ঘটনাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, রাষ্ট্রের আচরণে মানুষ অপমানিত বোধ করলে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হতে পারে। শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ ও নেপালের উদাহরণ টেনে স্ক্রল.ইনের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ছোট দাবি উপেক্ষিত হলে তা একসময় সরকারবিরোধী বৃহত্তর আন্দোলনে রূপ নিতে পারে। একইভাবে, দিল্লির আন্দোলনও এখন শুধু শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সূত্র: স্ক্রল.ইন

/এএসএফ