ফুটবলের বড় কোনো টুর্নামেন্ট বা চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের পর বিজয়ী দলের খেলোয়াড়দের গোলপোস্টের জাল কেটে বা ছিঁড়ে সঙ্গে নিয়ে যেতে প্রায়ই দেখা যায়। শুধু ফুটবল নয়, ল্যাক্রসের মতো খেলাতেও বহু বছর ধরে এই রীতি প্রচলিত। বিজয়ের স্মৃতি ধরে রাখার বিশেষ প্রতীক হিসেবে এই ঐতিহ্যকে দেখা হয়।
সম্প্রতি শেষ হওয়া মেগা ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো ফিফা বিশ্বকাপ জিতেছে স্পেন। শিরোপা নিশ্চিত হওয়ার পর স্প্যানিশ খেলোয়াড়দেরও মাঠের গোলপোস্টের জালের অংশ কেটে নিজেদের কাছে সংরক্ষণ করতে দেখা যায়। এই দৃশ্যের পর অনেক ফুটবলপ্রেমীর মনে প্রশ্ন জেগেছে—জয়ের পর খেলোয়াড়রা কেন এমনটি করেন?
জানা গেছে, খেলোয়াড়দের কাছে গোলপোস্টের জালের একটি অংশ শুধু সাধারণ একটি স্মারক নয়। এটি তাদের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গৌরবময় মুহূর্তের প্রতীক। অনেক ফুটবলার বিশ্বাস করেন, এই স্মারক ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারেও সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে কাজ করে।
ফুটবল বিশ্বে গোলপোস্টের জাল কেটে স্মারক হিসেবে সংরক্ষণের রীতি নতুন মাত্রা পায় স্প্যানিশ ডিফেন্ডার জেরার্ড পিকের মাধ্যমে। একাধিক বড় শিরোপা ও চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের পর তিনি গোলের জালের অংশ কেটে নিজের কাছে রেখে দিতে শুরু করেন।
পরবর্তীতে এই উদযাপন ধীরে ধীরে অন্যান্য দেশের খেলোয়াড়দের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে এবং বিশ্ব ফুটবলে একটি জনপ্রিয় ঐতিহ্যে পরিণত হয়।
বর্তমানে বড় কোনো ফাইনাল বা গুরুত্বপূর্ণ শিরোপা জয়ের পর গোলপোস্টের জালের একটি অংশ সংগ্রহ করা অনেক ফুটবল দলের কাছে অলিখিত নিয়মের মতো হয়ে গেছে। এটি শুধু বিজয় উদযাপনের একটি অংশ নয়, বরং ফুটবল ইতিহাসের একটি স্মরণীয় মুহূর্তকে আজীবনের জন্য নিজের কাছে সংরক্ষণ করে রাখার আবেগঘন প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হয়।
/এসএন