• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:২৫ এএম


‘সংসদে কোনো রক্তচক্ষুকে ভয় পাইনি’- হাসনাত আবদুল্লাহ

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৯ জুলাই ২০২৬ ৯:৫৪ পিএম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, গত পাঁচ মাসে সংসদে কোনো ধরনের রক্তচক্ষুকে তিনি ভয় পাননি। মিডিয়া মাফিয়া, ভূমিখেকো, ব্যাংক ডাকাত ও ভোটচোরদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে সংসদে কথা বলেছেন বলেও দাবি করেন তিনি। তার ভাষায়, “সংসদে সবার বিরুদ্ধে কথা বলেছি। কারণ দিন শেষে আমাদের বৈধতা হচ্ছে আমাদের জনতা।”রোববার (১৯ জুলাই) বিকেলে ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার বাইপাস মোড়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় দেশব্যাপী ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত পথসভা ও সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, যারা ব্যবসায়ী কিংবা বালুখেকোদের অর্থে রাজনীতি করে সংসদে যান, তারা কখনো জনগণের স্বার্থ রক্ষা করেন না। বরং যাদের অর্থে নির্বাচিত হন, তাদের পক্ষেই অবস্থান নেন। তিনি বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি জনগণের কাছেই জবাবদিহি করেন। কিন্তু অর্থ কিংবা সন্ত্রাসের মাধ্যমে নির্বাচিত ব্যক্তিরা জনগণকে ভয় পান না।তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে এনসিপি জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, নির্বাচিত হলে সংসদে গিয়ে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করবে। সেই প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তবায়ন হয়েছে, তার মূল্যায়ন জনগণই করবেন।

হাসনাত বলেন, “নির্বাচনের আগে আমরা বলেছিলাম, আপনারা আমাদের ভোট দিলে আমরা সংসদে গিয়ে আপনাদের প্রতিনিধিত্ব করব। আপনারাই বিচার করবেন আমরা ব্যবসায়ীদের পক্ষে কথা বলছি, নাকি জনগণের পক্ষে। যারা ব্যবসায়ীদের টাকায় রাজনীতি করে সংসদে যায়, তারা জনগণের নয়, ব্যবসায়ীদের কথাই বলে। একইভাবে যারা বালুখেকোদের টাকায় নির্বাচিত হয়, তারা কখনো বালুখেকোদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে না।”নাগরিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শুধু সমস্যা চিহ্নিত করলেই দায়িত্ব শেষ নয়, সমাধানের দায়িত্বও নিজেদের নিতে হবে। দেশের স্বার্থ, জনগণের স্বার্থ এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারের প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সে সময় রাজপথে মানুষ “তুমি কে, আমি কে, বিকল্প, বিকল্প” স্লোগান দিয়েছিল। তখন বলা হয়েছিল আওয়ামী লীগের কোনো বিকল্প নেই।

কিন্তু শিক্ষার্থী, পেশাজীবী, শ্রমজীবী, রিকশাচালকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ নিজেরাই সেই বিকল্প তৈরি করেছিলেন। সেই চেতনা ধরে রেখে দেশ গঠনের কাজ এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।তিনি আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে নাগরিকদের নিজেদের দায়িত্ব নিজেদেরই পালন করতে হবে। শুধু সরকারের ওপর নির্ভর করে বসে থাকলে চলবে না। দেশের স্বার্থ, জনগণের স্বার্থ ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের প্রশ্নে কোনো আপস করা যাবে না।নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ তুলে হাসনাত বলেন, “আমরা বলেছিলাম, আপনারা আমাদের ফ্রিতে ভোট দেবেন, আমরা আপনাদের ফ্রিতে সেবা দেব।

সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আমরা জনগণের পক্ষে কথা বলে যাচ্ছি।”তিনি আরও বলেন, “আমরা জনতার টাকায় নির্বাচন করেছি। জনতাই আমাদের ভোট দিয়েছে। তাই আমাদের ঋণ জনতার কাছে। যে নেতা জনগণের ভোটে নির্বাচিত হবে, সে জনগণকে ভয় পাবে। আর যে নেতা টাকার জোরে নির্বাচিত হবে, সে কখনো জনগণের সেবক হবে না।”দুর্নীতি ও লুটপাটের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, আগে এস আলম ব্যাংক ও দেশের সম্পদ লুট করেছে, কেউ বিদ্যুৎ খাতে দুর্নীতি করেছে।

এখন একটি দলের স্থানীয় নেতারা বালু, নদী ও গরু চুরির সঙ্গে জড়িত। জনগণের সম্পদ লুটের এই সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।তিনি বলেন, দুর্নীতি, লুটপাট ও দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। জনগণের সম্পদ রক্ষার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না।রাজাপুরের স্থানীয় সমস্যার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “রাজাপুরের মানুষ বালু খায়, নদী খায় এবং গরু চুরি করে খায়। আমাদের প্রার্থী তুহিন ভাই এসব সমস্যার সমাধান করবেন ইনশাআল্লাহ।”

আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচন প্রসঙ্গে হাসনাত আবদুল্লাহ ঘোষণা দেন, এনসিপির পক্ষ থেকে যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক মো. আরিফুর রহমান তুহিনকে রাজাপুর উপজেলা চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তিনি উপস্থিত ভোটারদের নিজেদের বিবেচনায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোনো চেয়ারম্যান, মেম্বার বা প্রভাবশালী ব্যক্তির কথায় নয়, নিজের সিদ্ধান্তেই ভোট দিতে হবে।জুলাই আন্দোলনের শহীদদের স্মরণ করে তিনি বলেন, “এই ১৯ জুলাই আমাদের ছোট ভাই নাঈম শহীদ হয়েছেন।

আজ তার শাহাদাতের দুই বছর পূর্ণ হয়েছে। এই শহীদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করবেন না। যে নেতা জনগণের রায়ে নির্বাচিত হয়, সে কখনো জনগণের সঙ্গে বেইমানি করবে না।”সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য আলী আহসান জুনায়েদ, কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার, সংরক্ষিত আসনের নারী সংসদ সদস্য ও দলের রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য ডা. মাহমুদা আলম মিতু, যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক মো. আরিফুর রহমান তুহিন, রাজাপুর উপজেলা এনসিপির সভাপতি শাহরিয়ার শাকিলসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।সমাবেশ শেষে এনসিপির কেন্দ্রীয় ‘জুলাই পদযাত্রা’ রাজাপুরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক অংশ নেন।

/বিএসএস