• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ পিএম


বিশ্বকাপ ফাইনালের গড় টিকিটের দাম প্রায় ১৪ লাখ টাকা

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৬ জুলাই ২০২৬ ১১:২০ পিএম

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালকে ঘিরে দর্শকদের ব্যাপক আগ্রহে টিকিটের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যকার শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচের টিকিট ইতোমধ্যে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ মূল্য স্পর্শ করেছে। ফিফার ঘোষিত প্রাথমিক মূল্যের তুলনায় পুনর্বিক্রয় বাজারে এখন টিকিটের দাম কয়েক গুণ বেড়ে গেছে।

আগামী রোববার রাতে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপের ফাইনাল, যেখানে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। ম্যাচটিকে ঘিরে টিকিটের চাহিদা এতটাই বেড়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক টিকিট বিক্রির প্ল্যাটফর্ম টিকপিকের তথ্য অনুযায়ী ফাইনালের টিকিটের গড় ক্রয়মূল্য দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ৩২৭ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৪ লাখ টাকার সমান। যুক্তরাষ্ট্রে আয়োজিত কোনো ক্রীড়া ইভেন্টের টিকিটের ক্ষেত্রে এটিই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ গড় মূল্য।

বর্তমানে ফাইনালের সবচেয়ে কম দামের টিকিট বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার ৯৪৩ ডলারে। তবে আর্জেন্টিনা ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠার আগে এই টিকিটের মূল্য ছিল প্রায় ৭ হাজার ২০০ ডলার। ফাইনালের দুই দল নিশ্চিত হওয়ার পর দাম কিছুটা কমেছে বলে জানিয়েছে ফোর্বস।

এদিকে সবচেয়ে দামী টিকিট বিক্রি হয়েছে ২৮ হাজার ৪৭৯ ডলারে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৫ লাখ টাকার সমান। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামের ১১৫এ সেকশনের দুটি আসনের টিকিট এই দামে বিক্রি হয়েছে। অর্থাৎ দুটি টিকিটের মোট মূল্য দাঁড়িয়েছে ৫৬ হাজার ৯৫৮ ডলার।

টিকপিকের হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ক্রীড়া ইতিহাসে গড় টিকিটমূল্যের বিচারে সবচেয়ে ব্যয়বহুল ক্রীড়া আয়োজন এখন ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল। এর পরের অবস্থানে রয়েছে ২০২৪ সালের সুপার বোল এলভিআইআইআই, যার গড় টিকিট মূল্য ছিল ৯ হাজার ৪১১ ডলার। এরপর রয়েছে ২০২১ সালের সুপার বোল এলভি (৭ হাজার ৩১৩ ডলার), ২০২০ সালের সুপার বোল এলআইভি (৬ হাজার ৫৪৬ ডলার) এবং ২০২৬ সালের এনবিএ ফাইনালের তৃতীয় ম্যাচ নিউইয়র্ক নিকস বনাম সান আন্তোনিও স্পার্স (৬ হাজার ৩০৮ ডলার)।

অন্যদিকে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের সবচেয়ে কম দামের টিকিটের মূল্য প্রায় ৯০০ ডলার। ইংল্যান্ড সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে যাওয়ার পর এই ম্যাচের টিকিটের দাম প্রায় ৩০০ ডলার কমে গেছে।

টিকিট সংগ্রহের প্ল্যাটফর্ম সিটপিকের তথ্য অনুযায়ী, সামগ্রিকভাবে ২০২৬ বিশ্বকাপ ফিফার ৯৬ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল আসরে পরিণত হয়েছে। টুর্নামেন্টের শুরুতে টিকিটের গড় মূল্য ছিল ১ হাজার ৬২২ ডলার, যা সেমিফাইনালে বেড়ে দাঁড়ায় ৪ হাজার ১৬২ ডলারে। তবে পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে সব ম্যাচের টিকিটের দাম একভাবে বাড়েনি। পুনর্বিক্রয় বাজারে কয়েকটি ম্যাচের টিকিটের মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমেও যায়।

বিশেষ করে স্পেন ও বেলজিয়ামের কোয়ার্টার ফাইনালের আগে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র এবং ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল বিদায় নেওয়ার পর ওই ম্যাচের টিকিটের দাম প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়।

বিশ্বকাপের টিকিট প্রথম দফায় বিক্রির সময় ফিফা ফাইনাল ম্যাচের সর্বোচ্চ মূল্য নির্ধারণ করেছিল ১০ হাজার ৯৯০ ডলার। পুনর্বিক্রয় বাজার বাদ দিয়ে শুধু বক্স অফিসের দাম বিবেচনায় ফুটবল ইতিহাসে সাধারণ গ্যালারির টিকিটের ক্ষেত্রে এটিই ছিল সর্বোচ্চ মূল্য।

তবে ফিফার টিকিট বিক্রির পদ্ধতি নিয়েও সমর্থকদের মধ্যে বিভ্রান্তি রয়েছে। সংস্থাটি একবারে সব টিকিট বিক্রির জন্য ছাড়েনি; বরং পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে ধাপে ধাপে টিকিট উন্মুক্ত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রচলিত ডায়নামিক প্রাইসিং বা পরিবর্তনশীল মূল্যব্যবস্থার কারণে টিকিটের দাম দ্রুত বেড়ে যায়।

অতিরিক্ত মূল্য বৃদ্ধির কারণে এবারের বিশ্বকাপের টিকিট সাধারণ দর্শকদের নাগালের বাইরে চলে গেছে বলে সমালোচনা উঠেছে। অনেকের মতে, বিশ্বকাপ ধীরে ধীরে ধনীদের আসরে পরিণত হচ্ছে। সমর্থকদের এই ক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে ফিফা জানিয়েছে, ২০৩০ বিশ্বকাপের টিকিট বিক্রির পদ্ধতি ও মূল্য নির্ধারণের কৌশল পুনর্বিবেচনা করা হবে।

/এসএন