• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০১ পিএম


“আমি যে শৈশবটা পাইনি, তা যেন আমার ছোটভাই পায়”

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৫ জুলাই ২০২৬ ১১:৪২ এএম

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে মাঠের পারফরম্যান্সে যেমন আলো ছড়াচ্ছেন স্পেনের ১৭ বছর বয়সী তারকা লামিনে ইয়ামাল, তেমনি গ্যালারিতে উপস্থিত তার তিন বছর বয়সী সৎ ভাই কেইন এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নতুন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

স্পেন টুর্নামেন্টে যত এগিয়ে যাচ্ছে, সম্প্রচার ক্যামেরাও ততবার ধরা দিচ্ছে ছোট্ট কেইনের দিকে। দুই হাত উঁচিয়ে ‘ভামোস’ (চলো/এগিয়ে যাও) বলে তার উচ্ছ্বাস প্রকাশের দৃশ্য ইতোমধ্যেই ফুটবলপ্রেমীদের মন জয় করেছে।

অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে আনন্দ উদযাপন কিংবা বেলজিয়ামের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে স্টেডিয়ামের বড় পর্দায় হাত নাড়ার মুহূর্ত—সব মিলিয়ে কেইন এখন বিশ্বকাপের অন্যতম আলোচিত ছোট্ট মুখ।

কেইনের জন্ম ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে। তিনি ইয়ামালের মা শিলা এবানার সন্তান। দুই ভাইয়ের মা একই হলেও তাদের বাবা ভিন্ন। ফলে তাদের বয়সের ব্যবধান ১৫ বছরেরও বেশি।

শৈশবে বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর ইয়ামাল মূলত মায়ের কাছেই বড় হয়েছেন। পরে তার মা দ্বিতীয়বার বিয়ে করলে জন্ম হয় কেইনের।

নিজের কঠিন শৈশবের সঙ্গে ছোট ভাইয়ের বর্তমান জীবন তুলনা করে ইয়ামাল এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমি এমন একটি ঘর থেকে এসেছি যেখানে রান্নাঘর আর শোবার ঘর একই জায়গায় ছিল। আজ আমি আমার মাকে সুখী দেখছি। আমি দেখছি আমার ভাই সেই শৈশবটা পাচ্ছে, যা আমি নিজে পেতে চেয়েছিলাম। এটাই আমাকে সবচেয়ে বেশি আনন্দ দেয়।’

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে ‘প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ’ হওয়ার পরও নিজের পারফরম্যান্স নয়, বরং পরিবারের কথাই বেশি বলেছেন ইয়ামাল।

আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমার ছোট ভাইকে এতটা খুশি দেখতে পেয়ে আমি আবেগাপ্লুত। আমার মা এবং বন্ধুদেরও তাদের স্বপ্নের মতো জীবন কাটাতে দেখে খুব ভালো লাগে। আমার ছোট ভাই-ই আমার সব। আমি তাকে প্রচণ্ড ভালোবাসি। মনে হয়, সে যেন আমার নিজেরই সন্তান।’

মাত্র ১৭ বছর বয়সেই পরিবারের প্রতি এমন দায়িত্ববোধের পরিচয় দিয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছেন ইয়ামাল। ২০২৫ সালে বার্সেলোনার সঙ্গে নতুন চুক্তি স্বাক্ষরের সময়ও পরিবারের সদস্যদের পাশে রেখেই সেই বিশেষ মুহূর্ত উদযাপন করেছিলেন তিনি।

বিশ্বকাপে স্পেনের সাফল্যের পাশাপাশি ইয়ামাল ও তার ছোট ভাই কেইনের এই হৃদয়ছোঁয়া সম্পর্কও এখন ফুটবলপ্রেমীদের আলোচনার অন্যতম বিষয় হয়ে উঠেছে।

সূত্র: কামেনা এসইআর

/এএসএফ