২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে ২-০ গোলে হেরে শিরোপার স্বপ্ন শেষ হয়েছে ফ্রান্সের। একই সঙ্গে পর্দা নামছে প্রধান কোচ দিদিয়ের দেশমের ১৪ বছরের দীর্ঘ দায়িত্ব পালনের অধ্যায়েরও।
বিশ্বকাপ শুরুর আগেই দেশম ঘোষণা দিয়েছিলেন, টুর্নামেন্ট শেষে তিনি জাতীয় দলের দায়িত্ব ছেড়ে দেবেন। সেমিফাইনালে বিদায়ের পর সেই সিদ্ধান্তই এখন বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে।
তবে ফ্রান্সের ডাগআউটে দেশমকে আর একবার দেখা যাবে। আগামী শনিবার তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে শেষবারের মতো দলের দায়িত্ব পালন করবেন তিনি। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্রান্স জাতীয় দলের নতুন প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেবেন কিংবদন্তি জিনেদিন জিদান।
২০১২ সালে ফ্রান্সের দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশমের অধীনে ইউরোপ ও বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম ধারাবাহিক শক্তিতে পরিণত হয় দলটি। তার নেতৃত্বে ২০১৪ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল, ২০১৮ সালে বিশ্বকাপ শিরোপা, ২০২২ সালে রানার্সআপ এবং ২০২৬ সালে সেমিফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছায় ফ্রান্স।
এবারের বিশ্বকাপে দেশমের সামনে ছিল আরও একটি অনন্য ইতিহাস গড়ার সুযোগ। টানা তৃতীয়বারের মতো ফ্রান্সকে বিশ্বকাপের ফাইনালে তুলতে পারলে সেটি হতো বিরল এক কীর্তি। আর শিরোপা জিততে পারলে খেলোয়াড় ও কোচ—দুই ভূমিকায় মিলিয়ে তিনটি বিশ্বকাপ জয়ের রেকর্ডে ব্রাজিলের কিংবদন্তি মারিও জাগালোর পাশে নাম লেখাতে পারতেন তিনি। তবে সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে সেই স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল।
খেলোয়াড় হিসেবে ১৯৯৮ সালে ফ্রান্সের অধিনায়ক হয়ে বিশ্বকাপ জিতেছিলেন দেশম। পরে ২০১৮ সালে কোচ হিসেবে আবারও বিশ্বকাপ শিরোপা এনে দেন। ২০২২ সালে আর্জেন্টিনার কাছে নাটকীয় ফাইনালে হেরে রানার্সআপ হয় তার দল। আর ২০২৬ বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল থেকেই শেষ হয় তার যাত্রা।
অন্যদিকে, মারিও জাগালো ১৯৫৮ ও ১৯৬২ সালে খেলোয়াড় হিসেবে এবং ১৯৭০ সালে কোচ হিসেবে ব্রাজিলকে বিশ্বকাপ জেতান। এছাড়া ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিল দলের সহকারী কোচও ছিলেন তিনি।
ফ্রান্সের দায়িত্বে ১৪ বছরে দেশম মোট ১৮৫টি ম্যাচে কোচিং করিয়েছেন। এর মধ্যে জয় এসেছে ১২০ ম্যাচে, ড্র ৩৫টি এবং হার ৩০টিতে।
এখন নতুন অধ্যায়ের অপেক্ষায় ফরাসি ফুটবল। দীর্ঘদিনের জল্পনার অবসান ঘটিয়ে জাতীয় দলের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন জিনেদিন জিদান। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে টানা তিনটি উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতানো এই কিংবদন্তির সামনে এবার লক্ষ্য থাকবে দেশমের গড়ে দেওয়া ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে ফ্রান্সকে আবারও বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষে পৌঁছে দেওয়া।
/এএসএফ