• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৪০ এএম


পঙ্গু বাবাকে জীবন্ত কবর দিতে ঘরের ভেতর ৭ ফুট গর্ত! ছেলের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১০ জুলাই ২০২৬ ১০:৫৮ এএম

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলায় পঙ্গু ও অসহায় বাবাকে জীবন্ত মাটিচাপা দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে ঘরের ভেতরে প্রায় ৫ ফুট প্রস্থ ও ৭ ফুট গভীর গর্ত খোঁড়ার অভিযোগ উঠেছে ছেলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ছেলেকে হাতেনাতে আটক করে গণপিটুনি দেন স্থানীয়রা। তবে পরে থানায় অভিযোগ করার কথা বলে তার মা ও বড় বোন তাকে নিয়ে এলাকা ছেড়ে চলে যান।

বুধবার (৮ জুলাই) উপজেলার বানিয়াচাপড় গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বানিয়াচাপড় গ্রামের কৃষক আব্দুস সালাম (৪৮) পাঁচ বছর আগে গাছ থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন। এতে তার মেরুদণ্ড ভেঙে যায় এবং কোমর থেকে নিচের অংশ অবশ হয়ে পড়ে। এরপর থেকেই তিনি শয্যাশায়ী জীবন কাটাচ্ছেন।

পরিবারের জীবিকা নির্বাহের জন্য বড় মেয়ে সুরাইয়া আক্তার এমএ পাস করার পর মা ও ভাইবোনদের নিয়ে বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় ফুচকা বিক্রি শুরু করেন। অন্যদিকে আব্দুস সালাম নিজ বাড়ির টিনশেড ঘরের খোলা বারান্দায় বড় ছেলে মোস্তাকিমের তত্ত্বাবধানে থাকতেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, প্রথমদিকে মোস্তাকিম বাবার দেখাশোনা করলেও পরে মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। নেশার টাকার জন্য তিনি প্রায়ই বাবাকে মারধর, গালিগালাজ ও হত্যার হুমকি দিতেন। গত কয়েকদিন ধরে তার অস্বাভাবিক চলাফেরা দেখে আব্দুস সালামের সন্দেহ হয়। তিনি লক্ষ্য করেন, ছেলে বারবার বালতি হাতে ঘরের ভেতরে যাতায়াত করছে এবং পরিশ্রান্ত অবস্থায় বের হচ্ছে।

বুধবার দুপুরে আব্দুস সালাম তার চাচাতো ভাই রাজুকে ডেকে ঘরটি দেখতে বলেন। পরে ঘরের দরজা খুলে এক কোণে প্রায় ৫ ফুট প্রস্থ ও ৭ ফুট গভীর একটি বড় গর্ত দেখতে পান তারা। একই সঙ্গে ঘরে মাটিভর্তি কয়েকটি বস্তা এবং পাশের ঘরে কাদা-মাটির স্তূপও দেখতে পান। তখন আব্দুস সালাম কান্নাজড়িত কণ্ঠে অভিযোগ করেন, তাকে জীবন্ত কবর দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই গর্ত খোঁড়া হয়েছে।

ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা মোস্তাকিমকে আটক করে বেঁধে রাখেন। পরে তার মা ও বড় বোন থানায় লিখিত অভিযোগ করার আশ্বাস দিয়ে তাকে গ্রামবাসীর কাছ থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান।

প্রত্যক্ষদর্শী রাজু আহমেদ দাবি করেন, মোস্তাকিম তার পঙ্গু বাবাকে ঘরের ভেতর মাটিচাপা দেওয়ার পরিকল্পনাই করেছিল। এ জন্য আগেই গর্ত ও কাদা প্রস্তুত করা হয়েছিল।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মোস্তাকিমের বড় বোন সুরাইয়া বেগম। তিনি বলেন, তার ভাই মাদকাসক্ত হলেও বাবাকে হত্যার জন্য গর্ত খোঁড়ার অভিযোগ সঠিক নয়। বিষয়টির পেছনে অন্য কারণ থাকতে পারে। প্রশাসনের তদন্তে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

এদিকে মৃত্যুভয়ে আতঙ্কিত আব্দুস সালাম বলেন, “আমাকে মাটিচাপা দিয়ে হত্যার জন্যই আমার ছেলে গোপনে গর্ত খুঁড়েছে। সামান্য কারণে আমাকে মারধর করত। এখন আমি নিজের জীবনের নিরাপত্তা চাই।”

ক্ষেতলাল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মুহ. আব্দুল করিম জানান, ঘটনাটি সম্পর্কে তারা লোকমুখে জেনেছেন। তবে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

/এএসএফ