• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:১২ এএম


জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মামলাঃ

রামপুরায় কার্নিশে ঝুলে থাকা তরুণকে গু’লি, ট্রাইব্যুনালে তিন পুলিশ কর্মকর্তার মৃ’ত্যুদণ্ড

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৮ জুন ২০২৬ ৪:৩২ পিএম

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরায় কার্নিশে ঝুলে থাকা এক তরুণকে গুলি করা এবং পৃথক ঘটনায় আরও দুজনকে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ তিন পুলিশ কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই মামলায় একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অপর এক আসামিকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রোববার (২৮ জুন) দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি হলেন—ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, খিলগাঁও অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম এবং রামপুরা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মশিউর রহমান। এর মধ্যে হাবিবুর রহমান এর আগে চানখাঁরপুলের একটি মামলাতেও মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন। ট্রাইব্যুনাল জানিয়েছে, এই তিন আসামিই বর্তমানে পলাতক।

এ মামলায় রামপুরা থানার সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়াকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অপর এক আসামিকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

আদালত সূত্রে জানা যায়, এদিন সকাল ১১টা ৪৮ মিনিটে রায় পাঠ শুরু হয়। রায় ঘোষণার আগে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) বিচারিক কার্যক্রম সরাসরি সম্প্রচারের অনুমতি চান। আদালতের অনুমতির পর রায় ঘোষণার কার্যক্রম বিটিভিতে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় এটি ট্রাইব্যুনালের পঞ্চম রায়। প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মামলাটিতে মোট ১৩ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

মামলার তদন্ত সংস্থা ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই তদন্ত প্রতিবেদন চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে জমা দেয়। পরে প্রতিবেদন যাচাই-বাছাই শেষে একই বছরের ৭ আগস্ট ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়।

এরপর ১৮ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনাল আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় ২৩ অক্টোবর এবং তা শেষ হয় চলতি বছরের ১৩ জানুয়ারি। গত ৩ ফেব্রুয়ারি উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার পর মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ ছিল।

প্রথমে গত ৪ মার্চ রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করা হলেও প্রসিকিউশনের আবেদনের পর সেদিন রায় ঘোষণা করা হয়নি। পরে ট্রাইব্যুনাল ১৫ জুন নতুন করে ২৮ জুন রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করেন। সেই অনুযায়ী আজ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।

প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলির হাত থেকে বাঁচতে রামপুরার বনশ্রী-মেরাদিয়া সড়কের পাশে একটি নির্মাণাধীন ভবনে উঠে যান আমির হোসেন। পুলিশও তার পিছু নেয়। একপর্যায়ে তিনি ভবনের ছাদের কার্নিশের রড ধরে ঝুলে থাকলেও এক পুলিশ সদস্য তাকে লক্ষ্য করে ছয় রাউন্ড গুলি চালান। এতে তিনি গুরুতর আহত হলেও প্রাণে বেঁচে যান। একই দিন বনশ্রী এলাকায় পুলিশের গুলিতে নাদিম ও মায়া ইসলাম নিহত হন।

/এসএন