• ঢাকা
  • শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫০ এএম


সংসদে কোনো ঋণখেলাপি নেই, নাহিদের বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পাল্টা জবাব

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৮ জুন ২০২৬ ১০:২৫ পিএম

বর্তমান জাতীয় সংসদের কোনো সদস্য ঋণখেলাপি নন বলে দাবি করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, সংসদ সদস্যদের মধ্যে কেউ ঋণগ্রস্ত থাকতে পারেন, তবে আইনগতভাবে কাউকে ঋণখেলাপি হিসেবে গণ্য করা যায় না।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের পয়েন্ট অব অর্ডারে দেওয়া বক্তব্যের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপল অর্ডার (আরপিও) এবং বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি আদালত কর্তৃক ঋণখেলাপি হিসেবে ঘোষিত হলে তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য হন। এটি একটি স্পষ্ট আইনি বিধান।”

তিনি আরও বলেন, নির্বাচিত হয়ে সংসদে আসার অর্থ হলো সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আইনগতভাবে বৈধ প্রার্থী ছিলেন এবং কোনো আদালত তাকে ঋণখেলাপি হিসেবে অযোগ্য ঘোষণা করেনি। ফলে কাউকে ঋণখেলাপি হিসেবে চিহ্নিত করে পুরো সংসদকে আখ্যায়িত করা আইনগতভাবে সঠিক নয়।

সালাহউদ্দিন আহমদ দাবি করেন, যেসব সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে অতীতে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মামলা ছিল, সেগুলো উচ্চ আদালতে নিষ্পত্তি হওয়ার পর তারা বৈধভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি বলেন, “আইনগতভাবে নিষ্পত্তির পর কেউ আর ঋণখেলাপি হিসেবে বিবেচিত থাকেন না।”

তিনি আরও বলেন, পুরো সংসদকে ‘ঋণখেলাপিদের সংসদ’ বলা মানহানিকর এবং সংসদীয় ভাষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ ধরনের বক্তব্য কার্যবিবরণী থেকে প্রত্যাহারের আহ্বানও জানান তিনি।

অন্যদিকে, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, নির্বাচনের আগেই তিনি ঋণখেলাপি প্রার্থীদের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তার দাবি, বড় অঙ্কের ঋণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তি মনোনয়ন পেয়েছেন এবং নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, তিনি সংসদে একাধিকবার বিভিন্ন সদস্যের ঋণসংক্রান্ত তথ্য উপস্থাপন করেছেন, যদিও ব্যক্তিগত মর্যাদার বিষয় বিবেচনায় নিয়ে নাম প্রকাশ করেননি।

তার ভাষায়, “যদি সংসদে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ঋণখেলাপি-সম্পর্কিত ব্যক্তি থেকে থাকেন, তাহলে সাধারণ মানুষ এই সংসদকে সেই দৃষ্টিতেই দেখতে পারে।”

তার এ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সংসদে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়।

/এএসএফ