প্রশান্ত মহাসাগরের অস্বাভাবিক উষ্ণতার কারণে চলতি বছরে বাংলাদেশে তুলনামূলক শুষ্ক মৌসুমি বৃষ্টি, দীর্ঘ তাপপ্রবাহ এবং খরার ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন দেশি-বিদেশি আবহাওয়াবিদ ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা। এ পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে এল নিনো সক্রিয় হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্রান্তীয় প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যাওয়ায় এল নিনোর অনুকূল পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের আবহাওয়া সংস্থাগুলোর পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়া চলতি বছরের মাঝামাঝি থেকে আরও শক্তিশালী হতে পারে এবং সেপ্টেম্বর নাগাদ এর প্রভাব সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়াবিজ্ঞানীরা বলছেন, এল নিনো সক্রিয় হলে দক্ষিণ এশিয়ার মৌসুমি বায়ুর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয়। ফলে বাংলাদেশে বৃষ্টিপাত কমে গিয়ে দীর্ঘ শুষ্ক সময় এবং তীব্র তাপপ্রবাহের সম্ভাবনা তৈরি হয়। এতে কৃষি উৎপাদন, পানি সরবরাহ এবং জনস্বাস্থ্য—সব ক্ষেত্রেই চাপ বাড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এল নিনোর সময় সমুদ্রপৃষ্ঠের উষ্ণ পানি পূর্ব দিকে সরে যায়, যার ফলে মেঘমালা সাধারণত প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্যাঞ্চলে অবস্থান করে। এতে দক্ষিণ এশিয়ায় আর্দ্রতার প্রবাহ দুর্বল হয়ে পড়ে এবং মৌসুমি বৃষ্টি স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যায়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পূর্ববর্তী এল নিনো বছরগুলোতে বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্য তাপমাত্রা বৃদ্ধি দেখা গেছে। ২০২৩–২৪ সালের ঘটনাকালে দেশের বহু জেলায় ৪০ থেকে ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল।
যুক্তরাজ্যের মেট অফিস জানিয়েছে, প্রশান্ত মহাসাগরে বর্তমানে যে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে, তা একটি শক্তিশালী এল নিনোর ইঙ্গিত দিতে পারে। সংস্থাটির মতে, এটি এ শতাব্দীর অন্যতম শক্তিশালী জলবায়ু ঘটনা হতে পারে, যার প্রভাব বৈশ্বিক পর্যায়ে অনুভূত হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (NOAA) জানিয়েছে, এল নিনো সৃষ্টির সম্ভাবনা প্রায় ৬১ শতাংশ এবং এটি দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এল নিনো কেবল একটি আবহাওয়াগত ঘটনা নয়, বরং এটি কৃষি, পানি ব্যবস্থাপনা এবং বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তার ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। তাই আগাম প্রস্তুতি, জল ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং তাপপ্রবাহ মোকাবিলায় কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি বলে তারা মত দিয়েছেন।