• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:১৮ এএম


টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে বন্যা পরিস্থিতি, বিপৎসীমার ওপর পাঁচ নদীর পানি

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১০ জুলাই ২০২৬ ৩:০২ পিএম

উজানের ঢল, নিম্নচাপের প্রভাব এবং টানা বর্ষণের কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে দেশের পাঁচটি নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম, মোংলা, পায়রা সমুদ্রবন্দর ও কক্সবাজারে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল ৯টার তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান গণমাধ্যমকে জানান, বৃহস্পতিবারের তুলনায় শুক্রবার পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে আগামী দিনে বন্যা পরিস্থিতি অনেকটাই নির্ভর করবে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল এবং উজান এলাকায় কতটুকু বৃষ্টিপাত হয় তার ওপর।

কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মোট ৯টি পর্যবেক্ষণ স্টেশনে পাঁচটি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে রয়েছে। এর মধ্যে বান্দরবানে সাঙ্গু নদীর পানি বান্দরবান পয়েন্টে বিপৎসীমার ৯৫ সেন্টিমিটার এবং দোহাজারী পয়েন্টে ২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এ ছাড়া মাতামুহুরী নদীর পানি লামা পয়েন্টে বিপৎসীমার ৪৭ সেন্টিমিটার এবং কক্সবাজারের চিরিঙ্গা পয়েন্টে ৩২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে।

অন্যদিকে কুশিয়ারা নদীর পানি সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে ১৮ সেন্টিমিটার এবং সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে ১০ সেন্টিমিটার, মনু নদের পানি মৌলভীবাজারের মনু রেলসেতু পয়েন্টে ৩৫ সেন্টিমিটার ও মৌলভীবাজার পয়েন্টে ৮০ সেন্টিমিটার এবং খোয়াই নদের পানি হবিগঞ্জের বল্লা পয়েন্টে ৬০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এদিকে তিস্তা নদীর ডালিয়া, কাউনিয়া ও তারাপুর, কুশিয়ারা নদীর শেরপুর, সুরমা নদীর কানাইঘাট, ছাতক ও সুনামগঞ্জ, সোমেশ্বরী নদীর কলমাকান্দা এবং ছোট ফেনী নদীর কোম্পানীগঞ্জ স্টেশনে পানি সতর্কসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, দেশের ১২৭টি পানি পর্যবেক্ষণ স্টেশনের মধ্যে বর্তমানে ৭৯টিতে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে, ৪৩টিতে পানি কমছে এবং পাঁচটিতে পানির উচ্চতা অপরিবর্তিত রয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতের মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে ১০৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। একই সময়ে বাংলাদেশের মধ্যে সর্বোচ্চ ২০৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে চট্টগ্রামে।

কেন্দ্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উজান এবং দেশের অভ্যন্তরে আগামী কয়েক দিনের বৃষ্টিপাতের প্রবণতাই নদ-নদীর পানির গতিপ্রকৃতি এবং সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

/এসএন