• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৪০ পিএম


চাঁদ পেরিয়ে পৃথিবীর পথে আর্টেমিস-২, অভিজ্ঞতা জানালেন নভোচারীরা

The Pulse BD news desk
আপডেট টাইম: ১০ এপ্রিল ২০২৬ ১০:৫৫ পিএম

চাঁদের কক্ষপথ ঘুরে এক ঐতিহাসিক সফর শেষে পৃথিবীর পথে ফিরতে শুরু করেছেন নাসার আর্টেমিস-২ মিশনের চার নভোচারী। চন্দ্রপৃষ্ঠের ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় তারা এই অভিজ্ঞতাকে “অভিভূতকর” বলে বর্ণনা করেছেন।

ওরিয়ন ক্যাপসুলের জানালা দিয়ে নভোচারীরা চাঁদের অসংখ্য গিরিখাত, ফাটল ও শৈলশিরার ছবি ধারণ করেন। পাশাপাশি তারা ক্যামেরাবন্দি করেছেন বিরল কিছু মহাজাগতিক দৃশ্য—যার মধ্যে রয়েছে ‘আর্থরাইজ’ (চাঁদ থেকে পৃথিবীর উদয়), সূর্যগ্রহণ এবং ওরিয়েন্টাল ইমপ্যাক্ট বেসিনের মতো অঞ্চল, যা আগে কখনো এত স্পষ্টভাবে দেখা যায়নি।

অভিযানের সময় চাঁদের দূরবর্তী অংশ অতিক্রম করার সময় প্রায় ৪০ মিনিট পৃথিবীর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। এ সময় প্রথম নারী হিসেবে চাঁদের চারপাশে ভ্রমণকারী নভোচারী ক্রিস্টিনা কোচ বলেন, এত কাছ থেকে চাঁদের ভূপ্রকৃতি দেখা ছিল এক অবিশ্বাস্য অভিজ্ঞতা। অন্য নভোচারী ভিক্টর গ্লোভার জানান, জানালার বাইরে তাকিয়ে মনে হচ্ছিল যেন তিনি নিজেই চাঁদের পাথুরে ভূখণ্ডে হাঁটছেন।

পৃথিবী থেকে সর্বোচ্চ ২ লাখ ৫২ হাজার ৭৫৬ মাইল দূরে গিয়ে এই মিশন ভেঙে দিয়েছে অ্যাপোলো-১৩–এর দীর্ঘদিনের রেকর্ড। এ সাফল্যের পর নভোচারীরা সরাসরি ফোনে কথা বলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে।

কানাডিয়ান নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন জানান, চাঁদের যে অংশ আমরা পৃথিবী থেকে দেখি, তার বিপরীত পাশ সম্পূর্ণ ভিন্ন—অন্ধকার এলাকা অনেক কম এবং ভূপ্রকৃতি অনেক বৈচিত্র্যময়। আর নভোচারী রিড ওয়াইজম্যান এই অভিযানের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, এটি মানবজাতিকে ‘দুই গ্রহের প্রজাতি’ হওয়ার পথে এক ধাপ এগিয়ে দিয়েছে।

প্রযুক্তিগত দিক থেকেও এই মিশন বড় সাফল্য অর্জন করেছে। অপটিক্যাল কমিউনিকেশন প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাত্র ৪৫ মিনিটে ২০ গিগাবাইট তথ্য পৃথিবীতে পাঠানো হয়েছে।

বর্তমানে ওরিয়ন ক্যাপসুলটি দ্রুতগতিতে পৃথিবীর দিকে ফিরছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ১০ এপ্রিল মার্কিন পূর্ব সময় রাত ৮টা ৭ মিনিটে সান ডিয়েগো উপকূলের কাছে সমুদ্রে অবতরণ করবে এটি। তবে ফেরার পথে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ, যেখানে ঘর্ষণের কারণে তাপমাত্রা প্রায় ১৬০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে।

এই সফল চন্দ্রাভিযান ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহসহ গভীর মহাকাশে মানুষের যাত্রার স্বপ্নকে আরও একধাপ এগিয়ে নিল বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।