ম্যাচের বয়স তখন ২১ মিনিট। কর্নার থেকে ভেসে আসা বল দুর্দান্ত হেডে জালে পাঠান জোভো লুকিচ। তার সেই ক্লোজ-রেঞ্জ হেডারে এগিয়ে যায় বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা। গোল হজমের পর মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়ে যায় গ্যালারিতে থাকা কানাডিয়ান সমর্থকরা।বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে পিছিয়ে পড়ার পর সমতায় ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে সহ-আয়োজক কানাডা। তবে একের পর এক আক্রমণ করেও কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পাচ্ছিল না দলটি।
জোনাথন ডেভিড ও তানি ওলুয়াসেয়িসহ কানাডার আক্রমণভাগ বেশ কয়েকটি সুযোগ নষ্ট করলে হার দিয়েই বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হতে পারে বলে শঙ্কা তৈরি হয়।তবে শেষ পর্যন্ত সমর্থকদের হতাশ হতে হয়নি। দ্বিতীয়ার্ধে কোচ জেসি মার্শ কৌশলগত পরিবর্তন এনে মাঠে নামান সাউদাম্পটনের স্ট্রাইকার কাইল লারিনকে। আর তাতেই বদলে যায় ম্যাচের চিত্র।মাঠে নামার মাত্র ১২১ সেকেন্ড পরই নিজের প্রথম স্পর্শে জাদু দেখান লারিন। বক্সের ভেতরে বল পেয়ে জোরালো শট নেন তিনি।
প্রতিপক্ষের এক ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে বল জালে জড়িয়ে গেলে উল্লাসে ফেটে পড়ে পুরো স্টেডিয়াম। বদলি হিসেবে নেমেই গোল করে কানাডাকে ম্যাচে ফেরান এই ফরোয়ার্ড।লারিনের সেই গুরুত্বপূর্ণ গোলেই বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ১-১ ব্যবধানের ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে কানাডা।
একই সঙ্গে ফুটবল ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের মঞ্চে একটি পয়েন্ট অর্জনের গৌরবও পায় তারা।পুরো ম্যাচেই বলের দখলে আধিপত্য ছিল কানাডার। প্রথমার্ধে ৬৬ শতাংশ সময় বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেও গোল করতে ব্যর্থ হয় স্বাগতিকরা। বসনিয়ার সুশৃঙ্খল রক্ষণভাগের সামনে বারবার আটকে যায় তাদের আক্রমণ।দ্বিতীয়ার্ধে আর্সেনালের সাবেক ডিফেন্ডার সেয়াদ কোলাসিনাচ এবং নিকোলা কাটিচ গোললাইন থেকে বল ক্লিয়ার করে নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে দেন।
ফলে দীর্ঘ সময় গোলের অপেক্ষায় থাকতে হয় কানাডাকে।তবে শেষ পর্যন্ত কাইল লারিনের তাৎক্ষণিক প্রভাব ম্যাচের ফল বদলে দেয়। মূল্যবান এক পয়েন্ট নিয়ে স্বস্তিতে মাঠ ছাড়ে কানাডা। অন্যদিকে পুরো ম্যাচে দারুণ লড়াই করেও জয় ধরে রাখতে না পারার আক্ষেপ নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে।
/বিএসএস