• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:১৩ এএম


দশ বছর আগে কোপা হেরে এই মাঠেই কেঁদেছিলেন মেসি!

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৯ জুলাই ২০২৬ ৬:৪৬ পিএম

২০১৬ সালের ২৬ জুন। কোপা আমেরিকার শতবর্ষী আসরের ফাইনাল। যুক্তরাষ্ট্রের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্টিনা ও চিলি। ১২০ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়েও কোনো দল গোলের দেখা পায়নি। ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। আর্জেন্টিনার প্রথম শট নিতে এগিয়ে যান অধিনায়ক লিওনেল মেসি। কিন্তু ভাগ্য যেন সেদিন তার সঙ্গে ছিল না। তার নেওয়া শট উড়ে যায় ক্রসবারের ওপর দিয়ে। শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে জয় তুলে নিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো কোপা আমেরিকার শিরোপা জিতে নেয় চিলি।সেটি ছিল শুধু একটি ফাইনালে হার নয়। সেই রাতের বেদনার পেছনে জমা ছিল দীর্ঘ হতাশার ইতিহাস। ২০১৪ সালের বিশ্বকাপ, ২০১৫ সালের কোপা আমেরিকা এবং ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকা—টানা তিনটি বড় ফাইনালে পরাজয়।

ক্লাব ফুটবলে একের পর এক সাফল্য পেলেও জাতীয় দলের হয়ে বড় কোনো শিরোপা জিততে না পারার আক্ষেপ মেসিকে ভেতর থেকে ভেঙে দিয়েছিল।ফাইনালের পর সংবাদ সম্মেলনে এসে তিনি এমন একটি ঘোষণা দেন, যা স্তব্ধ করে দেয় পুরো ফুটবল বিশ্বকে।“জাতীয় দলের সঙ্গে আমার পথচলা শেষ। আমার জন্য জাতীয় দল শেষ।”কয়েক মুহূর্তের জন্য মনে হয়েছিল, আর্জেন্টিনার জার্সিতে আর কখনও দেখা যাবে না ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই খেলোয়াড়কে।

কোটি সমর্থকের প্রিয় নায়ক এভাবেই বিদায় নেবেন—এ কথা কেউই সহজে মেনে নিতে পারেননি।কিন্তু মহান গল্পের শেষ অধ্যায় অনেক সময় লেখা হয় ঘুরে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়েই। সমর্থকদের অগাধ ভালোবাসা, সতীর্থদের অনুরোধ এবং নিজের অপূর্ণ স্বপ্ন মেসিকে আবার ফিরিয়ে আনে জাতীয় দলে। কারণ তিনি জানতেন, তার গল্প তখনও শেষ হয়ে যায়নি।এরপর শুরু হয় নতুন এক অধ্যায়। ২০২১ সালে ব্রাজিলের ঐতিহাসিক মারাকানা স্টেডিয়ামে স্বাগতিকদের হারিয়ে আর্জেন্টিনার হয়ে প্রথম আন্তর্জাতিক শিরোপা জেতেন মেসি।

এরপর আসে ২০২২ সালের ফিনালিসিমা। আর সেই বছরের ডিসেম্বরেই কাতারের লুসাইল স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক, পূরণ করেন ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন।যে মেসিকে একসময় জাতীয় দলের ব্যর্থতার প্রতীক হিসেবে সমালোচনা করা হতো, সেই মেসিই পরিণত হন আর্জেন্টিনার ইতিহাসের অন্যতম সফল অধিনায়কে। অপূর্ণতার গল্পকে তিনি বদলে দেন সাফল্যের মহাকাব্যে।

এবার ভাগ্য যেন আবারও তাকে ফিরিয়ে এনেছে সেই মেটলাইফ স্টেডিয়ামে। একই মাঠ, একই গ্যালারি, একই সবুজ ঘাস—তবে মানুষটি আর আগের সেই ভেঙে পড়া মেসি নন। তিনি এখন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন, আর্জেন্টিনার সর্বকালের অন্যতম সফল অধিনায়ক এবং কোটি মানুষের অনুপ্রেরণার নাম।ফুটবল মাঝে মাঝে এমন গল্প লেখে, যা কোনো চিত্রনাট্যকারের কল্পনাকেও হার মানায়। যে মাঠে একদিন একজন কিংবদন্তি নিজের স্বপ্নের সমাপ্তি দেখেছিলেন, সেই মাঠই আবার হয়ে ওঠে নতুন ইতিহাস লেখার মঞ্চ।

রোববার যখন লিওনেল মেসি মেটলাইফ স্টেডিয়ামের টানেল পেরিয়ে মাঠে নামবেন, হয়তো এক ঝলক ফিরে আসবে ২০১৬ সালের সেই বেদনাময় রাতের স্মৃতি। তবে এবার তার চোখে থাকবে না বিদায়ের অশ্রু। থাকবে আরেকটি ইতিহাস রচনার প্রত্যয়। এখন ফুটবলপ্রেমীদের একটাই প্রশ্ন—যে মাঠে একদিন কেঁদেছিলেন মেসি, সেখান থেকেই কি এবার হাসিমুখে ফিরবেন ফুটবলের এই মহাতারকা?

/বিএসএস