২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের হাইভোল্টেজ সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে স্পেন। ম্যাচে তরুণ ফরোয়ার্ড লামিন ইয়ামাল নিজের নৈপুণ্যে যেমন নজর কেড়েছেন, তেমনি আলোচনায় এসেছে তার মাথায় বাঁধা বিশেষ হেডব্যান্ডটিও।
ম্যাচজুড়ে ইয়ামালের হেডব্যান্ডে লেখা ছিল ‘০৮৩০৪’। অনেকের কাছেই এটি রহস্যময় মনে হলেও সংখ্যাটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে তার শৈশব, বেড়ে ওঠা এবং নিজের শিকড়ের প্রতি গভীর ভালোবাসা।
‘০৮৩০৪’ মূলত স্পেনের মাতারো শহরের রোকাফোন্ডা এলাকার পোস্টাল কোড। বার্সেলোনা থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরের এই এলাকাতেই জন্ম ও বেড়ে ওঠা ইয়ামালের। প্রায় ১০ হাজার মানুষের বসবাসের এই এলাকাটি তুলনামূলকভাবে সাধারণ ও নিম্নআয়ের জনপদ হিসেবে পরিচিত। বিশ্বমঞ্চে নিজের জন্মস্থানকে সম্মান জানাতেই হেডব্যান্ডে পোস্টাল কোডটি ব্যবহার করেছেন স্পেনের এই তরুণ তারকা।
তবে নিজের শিকড়কে তুলে ধরার ঘটনা ইয়ামালের জন্য নতুন নয়। এর আগেও গোল উদযাপনের সময় দুই হাতের আঙুল দিয়ে ‘৩০৪’ সংখ্যা তৈরি করে দেখিয়েছেন তিনি, যা একই পোস্টাল কোডের শেষ তিনটি সংখ্যা। এমনকি একটি ম্যাচে নিজের আর্মব্যান্ডেও জন্মস্থানের নাম লিখে খেলেছিলেন।
ইয়ামালের ফুটবল দর্শনের প্রতিফলনও দেখা গেছে তার বিভিন্ন বার্তায়। এর আগে এক ম্যাচে তাকে ‘Ego Yamal’ লেখা ব্যবহার করতে দেখা যায়। এটি জনপ্রিয় জাপানি ফুটবল অ্যানিমে ‘ব্লু লক’ থেকে অনুপ্রাণিত। অ্যানিমেটির মূল বার্তা হলো—বিশ্বসেরা স্ট্রাইকার হতে হলে নিজের সামর্থ্যের ওপর অটুট বিশ্বাস এবং ইতিবাচক আত্মবিশ্বাস থাকতে হবে। মাঠে ইয়ামালের আত্মবিশ্বাসী ফুটবলেও সেই দর্শনের ছাপ স্পষ্ট।
ফ্রান্সের বিপক্ষে সেমিফাইনালেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন ১৮ বছর বয়সী এই উইঙ্গার। প্রথমার্ধে ফরাসি ডিফেন্ডার লুকা দিনিয়ের ফাউলে আদায় করেন পেনাল্টি। সেই সুযোগ থেকে গোল করে স্পেনকে এগিয়ে দেন মিকেল ওয়ারসাবাল। পরে দ্বিতীয়ার্ধে পেদ্রো পোরোর দৃষ্টিনন্দন গোলে ২-০ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে লা রোহারা।
এই জয়ের ফলে ২০১০ সালের পর আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে স্পেন। এখন তারা অপেক্ষায় রয়েছে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার দ্বিতীয় সেমিফাইনালের বিজয়ী দলের বিপক্ষে শিরোপা লড়াইয়ের।
/এএসএফ