বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ের স্বপ্ন নিয়ে বর্তমানে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে লড়ছেন পর্তুগালের অধিনায়ক ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ৪১ বছর বয়সী এই মহাতারকার জন্য এটিই শেষ বিশ্বকাপ হতে পারে বলে অনেকের ধারণা। তবে রোনালদোর ইঙ্গিত বলছে, তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি এখানেই নাও টানতে পারেন।
পর্তুগিজ সুপারস্টারের সামনে এখনও আরেকটি বড় স্বপ্ন রয়েছে। সেটি হলো, ছেলে ক্রিস্টিয়ানো জুনিয়রের সঙ্গে একই দলে খেলতে মাঠে নামা। আর সেই স্বপ্নই তাকে আরও কয়েক বছর খেলা চালিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা দিচ্ছে।
সম্প্রতি নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে রোনালদো জানান, তার ছেলে নিয়মিত তাকে খেলা চালিয়ে যেতে উৎসাহ দেয়। পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী বলেন, ‘ক্রিস্টিয়ানো জুনিয়র সবসময় আমাকে বলে, খেলা চালিয়ে যাও। যেন ২০৩০ বিশ্বকাপে আমরা সতীর্থ হতে পারি।’
বাবার সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিতে দারুণ গতিতেই এগিয়ে যাচ্ছেন ১৫ বছর বয়সী ক্রিস্টিয়ানো জুনিয়র। মূলত লেফট উইঙ্গার হিসেবে খেললেও আক্রমণভাগের যেকোনো পজিশনে সমান দক্ষ এই তরুণ ফুটবলার ইতোমধ্যেই নিজের প্রতিভার প্রমাণ দিয়েছেন।
২০২৫ সালের মে থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পর্তুগালের অনূর্ধ্ব-১৫ ও অনূর্ধ্ব-১৬ দলের হয়ে তিনটি শিরোপা জিতেছেন তিনি। এর মধ্যে ভ্লাতকো মাকোভিচ টুর্নামেন্টের ফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করে শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
ক্লাব পর্যায়েও দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন ক্রিস্টিয়ানো জুনিয়র। সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসরের অনূর্ধ্ব-১৫ দলের হয়ে ২৭ ম্যাচে ৫৬টি গোল করার পাশাপাশি ১৫টি অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি। সম্প্রতি অনূর্ধ্ব-১৭ দলেও নিয়মিত গোল করছেন এবং একটি হ্যাটট্রিকও করেছেন।
তরুণ এই ফরোয়ার্ডের ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হয়ে সৌদি সংবাদমাধ্যম আল উইয়াম জানিয়েছে, ২০২৬-২৭ মৌসুম থেকেই তাকে আল নাসরের মূল দলের অনুশীলনে অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে। বিষয়টি বাস্তবে রূপ নিলে বাবা-ছেলের একসঙ্গে মাঠে নামার স্বপ্ন আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।
বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নের পাশাপাশি তাই এখন রোনালদোর সামনে আরেকটি ব্যক্তিগত লক্ষ্যও স্পষ্ট—২০৩০ বিশ্বকাপে ছেলে ক্রিস্টিয়ানো জুনিয়রের সঙ্গে একই জার্সিতে মাঠে নামা। ফুটবলপ্রেমীদের জন্য সেটি হতে পারে ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত।
/এএসএফ