• ঢাকা
  • রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৯ পিএম


আফগানিস্তানে ৭০ মিটার গভীর কূপে দুই দিন ধরে আটকে থাকা ৫ বছরের শিশু উদ্ধার!

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৪ অক্টোবর ২০২৬ ৯:২০ পিএম

আফগানিস্তানে তীব্র খরা ও ভূগর্ভস্থ পানির সন্ধানে খনন করা লাখ লাখ সরু ও অরক্ষিত নলকূপ এখন শিশুদের জন্য প্রাণঘাতী মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। পরিত্যক্ত ও অরক্ষিত এসব কূপে পড়ে দুর্ঘটনার ঘটনা বাড়ছে।

সম্প্রতি দেশটির কান্দাহার প্রদেশের মাইওয়ান্দ জেলায় বন্ধুদের সঙ্গে খেলার সময় ৫ বছর বয়সী জাইনুলাহ ৭০ মিটার বা প্রায় ২৩০ ফুট গভীর একটি শুকনো কূপে পড়ে যায়। কূপটির প্রস্থ ছিল মাত্র ৩০ সেন্টিমিটার। টানা দুই দিন অন্ধকার ও ভেজা ওই গহ্বরে আটকে থাকার পর ১১ বছর বয়সী এক কিশোরের সাহসী উদ্যোগে তাকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়। বিবিসি এ তথ্য জানিয়েছে।

শিশুটি যে কূপে পড়ে গিয়েছিল, সেটির মুখ এতটাই সংকীর্ণ ছিল যে কোনো প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের পক্ষে সেখানে নামা সম্ভব ছিল না। স্থানীয়রা প্রথমে রশির সঙ্গে হুক বেঁধে জাইনুলাহকে ওপরে তুলে আনার চেষ্টা করেন। তবে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। উল্টো এতে শিশুটি আহত হয়ে ভয় পেয়ে যায়।

এরপর স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী উদ্ধারকারী মিরাজান আবদুল্লাহর তৈরি বিশেষ ক্যামেরা ও মনিটর কূপের ভেতরে নামানো হয়। এর মাধ্যমে গভীর কূপের নিচে জাইনুলাহর অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

তবে কূপটি নিচের দিকে গিয়ে বাঁকানো থাকায় স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থায় শিশুটিকে দড়ি দিয়ে বাঁধা সম্ভব হচ্ছিল না। এমন পরিস্থিতিতে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গভীর কূপে নামতে রাজি হয় ১১ বছর বয়সী কিশোর হযরত ওমর।

প্রথম দফায় কূপের ভেতরে নামার সময় কাঁধ ও উরুতে আঘাত পেয়ে তাকে ফিরে আসতে হয়। কিন্তু এরপরও হাল ছাড়েনি সে। দ্বিতীয়বার সে কূপের প্রায় ৭০ মিটার গভীরে নেমে যায়।

সেখানে পৌঁছে ওমর জাইনুলাহর শরীরে নিরাপদে রশি বেঁধে দেয়। এরপর ওপরে অপেক্ষমাণ শত শত মানুষের উপস্থিতিতে একে একে দুই শিশুকেই নিরাপদে ওপরে তুলে আনা হয়।

বিবিসির অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২১ সালে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর থেকে আফগানিস্তানে এ ধরনের খোলা কূপে পড়ে অন্তত ১০০টি দুর্ঘটনার খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। এসব দুর্ঘটনার অধিকাংশের শিকার ১০ বছরের কম বয়সী শিশু। দুর্ঘটনাগুলোর প্রায় অর্ধেক ক্ষেত্রেই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তন ও দীর্ঘস্থায়ী খরার কারণে কৃষিকাজের জন্য পানির সন্ধানে আফগানিস্তানে প্রায় ৫ লাখ গভীর নলকূপ বসানো হয়েছে। কাজ শেষ হওয়ার পর কিংবা কূপের পানি শুকিয়ে যাওয়ার পর অনেক কৃষক সেগুলো অরক্ষিত অবস্থায় ফেলে রাখেন। পরবর্তী সময়ে এসব কূপই বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হয়ে উঠছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, দারিদ্র্যের কারণে অনেক কূপ পাকা করে ঢেকে দেওয়া সম্ভব হয় না। ফলে দক্ষিণ আফগানিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় এসব অরক্ষিত কূপ শিশুদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই মরণফাঁদ বন্ধ করতে অরক্ষিত কূপের মুখ নিরাপদভাবে বন্ধ করা, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং দুর্ঘটনা মোকাবিলায় পর্যাপ্ত উদ্ধার সরঞ্জাম নিশ্চিত করা জরুরি।

/এএসএফ