বিশ্বকাপের ‘এইচ’ গ্রুপে সৌদি আরবকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে নকআউট পর্বের পথে বড় এক ধাপ এগিয়ে গেল স্পেন। ম্যাচজুড়ে আধিপত্য বিস্তার করা ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নরা প্রথম ২৪ মিনিটেই তিন গোল করে কার্যত জয় নিশ্চিত করে ফেলে।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে স্পেন। এর ফলও পায় দ্রুত। ১০ মিনিটে দলের হয়ে প্রথম গোল করেন তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল। বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজের প্রথম গোল করেই ইতিহাসের পাতায় নাম লেখান তিনি।
এই গোলের মাধ্যমে ১৮ বছর বা তার কম বয়সী খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপ ম্যাচে প্রথম গোল করার বিরল কীর্তিতে পেলের পাশে জায়গা করে নেন ইয়ামাল। ১৯৫৮ বিশ্বকাপে ওয়েলসের বিপক্ষে মাত্র ১৭ বছর বয়সে গোল করেছিলেন ব্রাজিল কিংবদন্তি পেলে। দীর্ঘ ৬৮ বছর পর সেই রেকর্ডে ভাগ বসালেন স্প্যানিশ বিস্ময়বালক।
ইয়ামালের গোলের পর আক্রমণের গতি আরও বাড়িয়ে দেয় স্পেন। ২১তম মিনিটে দারুণ এক দলীয় আক্রমণ থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মিকেল ওয়াইরসাবাল। মার্ক কুকুরেয়ার নিয়ন্ত্রণে নেওয়া বল দানি ওলমোর স্পর্শ পেরিয়ে পৌঁছে যায় ওয়াইরসাবালের কাছে, আর তিনি নিখুঁত শটে বল জালে জড়ান।
মাত্র তিন মিনিট পর আবারও গোলের দেখা পান ওয়াইরসাবাল। ২৪তম মিনিটে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করে স্পেনকে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি। ফলে মাত্র ২৪ মিনিটের মধ্যেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে তুলে নেয় স্পেন।
বিশ্বকাপ ইতিহাসে ২৪ মিনিটের মধ্যে তিন বা তার বেশি গোল করার ঘটনা খুবই বিরল। এর আগে ২০১৪ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ব্রাজিলের বিপক্ষে ২৪ মিনিটের মধ্যে চার গোল করেছিল জার্মানি। এছাড়া ২০০২ সালে সৌদি আরবের বিপক্ষে জার্মানি এবং ১৯৮২ সালে এল সালভাদরের বিপক্ষে হাঙ্গেরিও এমন কীর্তি গড়েছিল।
প্রথমার্ধেই হ্যাটট্রিকের সুযোগ পেয়েছিলেন ওয়াইরসাবাল। তবে ৩৬তম মিনিটে তার শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসায় সেই কীর্তি আর গড়া হয়নি।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আরও একটি গোল পায় স্পেন। ৪৯তম মিনিটে মার্ক কুকুরেয়ার ভলি সৌদি গোলরক্ষক ফিরিয়ে দিলেও বল ডিফেন্ডার হাসান আল তামবাকতির গায়ে লেগে জালে জড়িয়ে যায়। আত্মঘাতী সেই গোলে ব্যবধান দাঁড়ায় ৪-০।
এরপর সৌদি আরবের সমর্থকদের মনে ২০০২ বিশ্বকাপে জার্মানির কাছে ৮-০ গোলে হারার দুঃস্বপ্ন ফিরে এলেও স্পেন আর গোলের সংখ্যা বাড়ায়নি। ফলে ৪-০ গোলের বড় জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে লা রোহা।
এই জয়ে দুই ম্যাচ শেষে ৪ পয়েন্ট নিয়ে ‘এইচ’ গ্রুপ থেকে নকআউট পর্বের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে স্পেন। অন্যদিকে প্রথম ম্যাচে উরুগুয়ের সঙ্গে ড্র করা সৌদি আরবও এখনও প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে যায়নি। শেষ ম্যাচে কেপ ভার্দেকে হারাতে পারলে তাদেরও নকআউটের সম্ভাবনা টিকে থাকবে।
/এএসএফ