আবাসিক মাদরাসাগুলোতে যৌন নিপীড়ন ও অনাচারের অভিযোগ বন্ধে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামী বক্তা শায়েখ আহমাদুল্লাহ। একই সঙ্গে এ ধরনের অভিযোগ তদন্তে আলাদা কমিশন গঠনের প্রস্তাবও দিয়েছেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে শায়েখ আহমাদুল্লাহ বলেন, আবাসিক মাদরাসাগুলোতে যৌন অনাচারের ঘটনা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। বিষয়টি নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন পরামর্শ ও সুপারিশ দিয়ে আসছেন বলেও উল্লেখ করেন।
তিনি জানান, বর্তমানে তিনি হজ সফরে রয়েছেন। দেশে ফিরে এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রস্তাবনা উপস্থাপন এবং কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে তার।
পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, মাদরাসায় যৌন নির্যাতনের অভিযোগ প্রতিরোধে প্রতিটি কক্ষ সিসিটিভির আওতায় আনা জরুরি। পাশাপাশি শিক্ষক প্রশিক্ষণ, শিক্ষকদের জন্য ফ্যামিলি বাসার ব্যবস্থা, আবাসন ও শ্রেণিকক্ষ আলাদা রাখা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক খাটের ব্যবস্থার কথাও বলেন তিনি।
এছাড়া মহিলা মাদরাসাগুলোতে পুরুষ শিক্ষক বা স্টাফ নিয়োগ না দেওয়ার পরামর্শও দেন শায়েখ আহমাদুল্লাহ।
তিনি দাবি করেন, কিছু ক্ষেত্রে প্রকৃত ঘটনা থাকলেও কখনও কখনও নিরপরাধ আলেম বা ইমামদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হয়। উদাহরণ হিসেবে ফেনীর একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওই ঘটনায় ফরেনসিক পরীক্ষায় স্থানীয় এক ইমামের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি।
পোস্টে আরও বলা হয়, দেশের বড় ও পরিচিত মাদরাসাগুলোর তুলনায় অনিয়ন্ত্রিতভাবে গড়ে ওঠা ছোট আবাসিক মাদরাসাগুলোতেই এ ধরনের অভিযোগ বেশি শোনা যায়।
এই পরিস্থিতিতে হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া-র অধীনে আলেম ও বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিশন গঠনের প্রস্তাব দেন তিনি।
তার প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনো অভিযোগ উঠলে কমিশন ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বিচারের মুখোমুখি করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরি না পাওয়ার ব্যবস্থা করার সুপারিশও করা হবে।
শায়েখ আহমাদুল্লাহ বলেন, মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থার ভাবমূর্তি ও জনআস্থা ধরে রাখতে এখন কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে।
/এসএন