• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২৯ পিএম


কা’লো জা’দু থেকে সুরক্ষিত থাকতে যে ৭টি আমল করবেন

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ৭:১৮ পিএম

জাদুবিদ্যার উৎস হিসেবে শয়তান ও জিনকে উল্লেখ করা হয়েছে। মানুষের মধ্যে জাদুবিদ্যার প্রচার ও প্রসারে তাদের ভূমিকার কথাও কোরআনে উঠে এসেছে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আরও এই যে, কতিপয় মানুষ কতক জিনের শরণাপন্ন হতো, ফলে তারা জিনদের অহংকার বাড়িয়ে দিত।’ (সুরা জিন, আয়াত: ৬)

হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, লোকজন নবী মুহাম্মদ (সা.)-কে জ্যোতিষীদের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। সে সময় জ্যোতিষীদের কেউ কেউ জাদুবিদ্যার চর্চাও করত। জবাবে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, তারা মূলত কিছুই নয়। তখন লোকজন জানতে চান, কখনো কখনো তাদের বলা কিছু কথা সত্য হয় কেন। নবী (সা.) ব্যাখ্যা করেন, জিনেরা কোনো কথা প্রথমে শুনে তা মনে রাখে। পরে মুরগির করকর শব্দের মতো করে সেই কথা তাদের সহযোগীদের কানে পৌঁছে দেয়। এরপর জ্যোতিষীরা সামান্য সত্যের সঙ্গে শত মিথ্যা মিশিয়ে বলে। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৭৫৬১)

ইসলামি শরিয়তে জাদু শেখা, অন্যকে শেখানো এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকা নিষিদ্ধ। আল্লামা ইবনে কুদামা (রহ.) এ বিষয়ে বলেন, ‘নিশ্চয়ই জাদু শেখা এবং তা শেখানো হারাম। এই বিষয়ে আলেমদের কোনো মতভিন্নতা নেই।’ (আল মুগনি, খণ্ড: ১০, পৃষ্ঠা: ১০৬)

ইমাম আবু হানিফা, ইমাম মালিক ও ইমাম আহমদ (রহ.)-সহ অধিকাংশ ইমামের মতে, জাদুবিদ্যার চর্চা কুফরি।

কালো জাদু বলতে সাধারণত এমন কর্মকাণ্ডকে বোঝানো হয়, যার মাধ্যমে নিজের স্বার্থ হাসিল করা কিংবা অন্যের ক্ষতি করার চেষ্টা করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে বশীকরণ, তাবিজ-কবজ, বান মারা এবং জাদু-টোনার মতো কাজ।

জাদু করা স্পষ্টত হারাম ও কুফরি হওয়া সত্ত্বেও কিছু মানুষ এখনো এ ধরনের কাজে জড়িত। তাদের কেউ কেউ জাদুর মাধ্যমে অন্যের ক্ষতি করার চেষ্টা করে। তবে জাদুর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষিত থাকার বিষয়ে ইসলামেও দিকনির্দেশনা রয়েছে। কোরআনের নির্দিষ্ট আয়াত এবং হাদিসে বর্ণিত দোয়া পাঠের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে সুরক্ষা চাওয়ার কথা বলা হয়েছে। হজরত মুহাম্মদ (সা.) অসুস্থ সাহাবিদের জন্য ঝাড়ফুঁক করতেন এবং তাঁদের সুস্থতার জন্য বিশেষ দোয়া করতেন।

কেউ জাদুটোনার শিকার হয়েছেন বলে মনে করলে তাঁর উচিত আল্লাহর সাহায্য চাওয়া এবং তাঁর কাছে দোয়া করা। পাশাপাশি ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষার জন্য কোরআন-হাদিসে বর্ণিত আমলগুলো পালন করা যেতে পারে। কালো জাদুর ক্ষতি থেকে সুরক্ষিত থাকার জন্য উল্লেখযোগ্য সাতটি আমল হলো—

১. সকাল-সন্ধ্যায় সুরা ইখলাছ, ফালাক ও নাস পাঠ

সকাল ও সন্ধ্যায় তিনবার করে সুরা ইখলাছ, সুরা ফালাক এবং সুরা নাস পাঠ করা। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৫০৮২)

২. সকাল-সন্ধ্যায় নির্দিষ্ট দোয়া পাঠ

সকাল ও সন্ধ্যায় তিনবার করে নিচের দোয়াটি পাঠ করা—

উচ্চারণ: বিসমিল্লা হিল্লাজি লা ইয়াজুররু মাআস মিহি শাইয়ুন ফিল আরজি ওয়া লা ফিসসামায়ি ওয়া হুয়াস সামিউল আলিম।

(হাকেম, হাদিস: ১৯৩৮)

৩. ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসি পাঠ

রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে আয়াতুল কুরসি পাঠ করা। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৩১১)

৪. ঘুমানোর আগে তিন কুল পড়ে শরীরে হাত বুলানো

ঘুমানোর আগে সুরা ইখলাছ, সুরা ফালাক ও সুরা নাস পাঠ করে দুই হাতে ফুঁ দিতে হবে। এরপর শরীরের যতটুকু অংশে হাত পৌঁছানো যায়, সেখানে হাত বুলিয়ে নিতে হবে। এভাবে তিনবার করার কথা হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫০১৭)

৫. সুস্থতার জন্য সকাল-সন্ধ্যায় দোয়া

সকাল ও সন্ধ্যায় তিনবার করে নিচের দোয়াটি পাঠ করা—

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আফিনি ফি বাদানি, আল্লাহুম্মা আফিনি ফি সাময়ি, আল্লাহুম্মা আফিনি ফি বাসারি।

(সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৫০৯০)

৬. সৃষ্টির অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চেয়ে দোয়া

সকাল ও সন্ধ্যায় নিচের দোয়াটি পাঠ করা—

উচ্চারণ: আউজু বিকালি মাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন শাররি মা খালাক।

(সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৭০৯)

৭. সুরা বাকারার শেষ দুই আয়াত পাঠ

সুরা বাকারার শেষ দুই আয়াত পাঠ করা। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫০০৮)

/এসএন