• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ১০:৫৬ পিএম


ভারতের সঙ্গে নতজানু পররাষ্ট্রনীতি চলবে না: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৬ মে ২০২৬ ৫:১০ পিএম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, ভারতের সঙ্গে কোনো নতজানু পররাষ্ট্রনীতি চলবে না। তিনি বলেন, ‘যদি আপনি বলেন, সবার আগে বাংলাদেশ, তাহলে সীমান্তে কীভাবে মানুষ খুন হয় সেই প্রশ্নের জবাব দিতে হবে।’

শনিবার (১৬ মে) বেলা একটার দিকে রাজশাহী জেলা পরিষদ মিলনায়তনে এনসিপির উদ্যোগে আয়োজিত রাজশাহী মহানগর ও জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের যোগদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে ভারতীয় যে বাংলাদেশে বাহিনী রয়েছে, সিভিল ফরমেটে আওয়ামী লীগ এই ভারতকেন্দ্রিক বাহিনীর সঙ্গে কোনো কম্প্রোমাইজ করতে পারে না।

রাজশাহীর কৃষি ও আম শিল্পের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, রাজশাহীর আম শুধু এই অঞ্চলের সম্পদ নয়, এটি পুরো বাংলাদেশ ও বিশ্বের সম্পদ। কিন্তু কৃষক ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। তিনি বলেন, কৃষক ২০ টাকায় আম বিক্রি করলেও ঢাকায় সেটি ১০০ টাকায় বিক্রি হয়। মাঝখানে সিন্ডিকেট ও দালাল শ্রেণি লাভবান হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আমের কোনো সিন্ডিকেট চলতে দেওয়া হবে না। আম সংরক্ষণের জন্য কোল্ড স্টোরেজ এবং আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা চালুর দাবি জানান তিনি। পাশাপাশি রাজশাহীকে প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি ব্যবস্থার আওতায় আনার কথাও বলেন।

নাসীরুদ্দীন বলেন, ‘আমরা সরকারে থাকি কিংবা জনতার কাতারে থাকি, রাজশাহীবাসীর জন্য লড়াই করব। আপনাদের যেকোনো সমস্যায় এনসিপি পাশে থাকবে।’

পানিসংকট নিয়ে তিনি বলেন, ‘রাজশাহীবাসীর নদীতে পানি চাই। নদীর পানির প্রশ্নে কোনো আপোষ করা হবে না। খাল খননের আগে নদীতে পানি আনতে হবে। যদি প্রয়োজন হয়, পানির অধিকারের জন্য আবারও লং মার্চ হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আপনাদের অধিকার আপনাদেরকেই আদায় করে নিতে হবে। সেই আন্দোলনে জাতীয় নাগরিক পার্টি আপনাদের সঙ্গে আছে।’

রাজশাহীতে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকলেও কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকার বিষয়েও বক্তব্য দেন এনসিপির এই নেতা। তিনি বলেন, রাজশাহীতে এত বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ রয়েছে, যেখানে হাজার হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। কিন্তু পড়াশোনা শেষে এখানে ভালো চাকরি বা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নেই।

সরকারের বিভিন্ন কার্ড কর্মসূচি নিয়েও সমালোচনা করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু কতগুলো কার্ড পেয়েছি, যেগুলো পকেটে নিয়ে ঘুরতে হয়। আমরা আগেই বলেছিলাম, এই কার্ডে যদি টাকা না আসে, তাহলে আমরাও একটা কার্ড বানাব। সেই কার্ডের নাম হবে লাল কার্ড, যেটা আমরা সরকারের হাতে ধরিয়ে দেব।’

তিনি বলেন, ‘আমরা লুটপাট বা চাঁদাবাজির রাজনীতি করি না। আমরা মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য রাজনীতি করি।’

বক্তব্যের একপর্যায়ে ঐতিহাসিক ফারাক্কা দিবসের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি। নাসীরুদ্দীন বলেন, ‘আজকের এই দিনে মাওলানা ভাসানী ভারতের বিরুদ্ধে পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন। যারা তার আদর্শের কথা বলে, তাদের সেই নীতিও ধারণ করতে হবে।’

তিনি আবারও বলেন, ‘সিভিল ফর্মেটে আওয়ামী লীগ এই ভারতকেন্দ্রিক বাহিনীর সঙ্গে কোন কম্প্রোমাইজ চলবে না। ভারতের সঙ্গে কোনো নতজানু পররাষ্ট্রনীতি চলবে না। যদি আপনি বলেন, সবার আগে বাংলাদেশ, তাহলে সীমান্তে কীভাবে মানুষ খুন হয় সেই প্রশ্ন রেখে গেলাম।’

নদী ও খাল খনন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কৃষি জমিতে চাষ করবেন? নদীর পানি কি আছে? বড় বড় কথা বলে, খাল খনন করে জাতীয়তাবাদী। খালের পানি কী সমুদ্র থেকে আসে নাকি নদী থেকে আসে? আমাদের উল্টা সায়েন্স বুঝায়। যদি খাল খনন করতে হয় তাহলে আগে নদীতে পানি নিয়ে আসতে হবে। এখন যদি ভারতের সামনে গিয়ে নম নম শুরু করো তাহলে কী শুধু খাল খনন করে আমাদের কোন ব্যবস্থা হবে?’

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘রাজশাহীবাসীর নদীতে আমরা পানি চাই। আমাদের জীবন বাঁচাতে হলে নদীর পানির সঙ্গে আমরা কোন আপোস করবো না।’

অনুষ্ঠানে নেতারা গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণ করেন এবং আগামী দিনে সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও জোরদারের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব এস এম সাইফ মোস্তাফিজ, কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী সালাউদ্দিন তানভীর, জাতীয় নারী শক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিন, রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান ইমন এবং মহানগরের আহ্বায়ক মোবাশ্বের আলীসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের এক হাজারের বেশি নেতাকর্মী আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপিতে যোগ দেন।

/এসএন