গুপ্ত এবং শিবির দুই শব্দকে একসাথে করে অনেকদিন ধরেই নানান ইস্যু তৈরী হয়েছে। দুইদিন আগে চট্টগ্রামে শিবির-ছাত্রদল সংঘর্ষে এক শিবির কর্মীর পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হবার ঘটনা তৈরী হয়েছে। এই বিষয়ে এবার কথা বললেন, ডাকসুর নির্বাচিত সদস্য সর্বমিত্র চাকমা।
পাঠকদের জন্য তার পুরো ফেসবুক পোস্টটি তুলে ধরা হলো।
“ছাত্র শিবিরের “গুপ্ত রাজনীতি” করার দরকার কি? এখন তো আওয়ামী লীগ সরকারে নেই? তাদের প্রকাশ্য রাজনীতিতে আসা উচিত….
গুপ্ত রাজনীতি ছেড়ে শিবির সম্পূর্ণ প্রকাশ্য রাজনীতিতে আসুক , আমার ব্যক্তিগত চাওয়া ।
তবে , এখানে একটা কিন্তু আছে। সমাজে “শিবিরের কর্মী” নি:শর্তভাবে হ/ত্যাযোগ্য প্রাণ। শিবিরকে মেরে ফেলা জায়েজ , গত সতেরো বছরে সমাজ ও রাষ্ট্রে এটা প্রতিষ্ঠিত বাক্য। যদিও রাষ্ট্র কর্তৃক নিষেধাজ্ঞা নেই তাদের উপর।
আজ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রদল সভাপতি একটা বক্তব্য দিয়েছেন , “হয় ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলব, নয়তো গুপ্ত শিবিরদের হত্যা করব”
কথাটা খুবই স্বাভাবিক , কারণ আইন হাতে তুলে নিয়ে হ/ত্যা করতে চেয়েছে শিবিরকে। একই বক্তব্য যদি অন্য কোনো সংগঠনকে উদ্দেশ্য করে হতো বিরাট নিন্দার ঝড় বইতো।
শিবির নিজেও হয়তো এটা মেনে নিয়েছে , তারা নিজেরাও বিশ্বাস করে তারা একেকজন হত্যাযোগ্য প্রাণ , মানবাধিকার তাদের জন্য প্রযোজ্য নয়। তা না হলে সামাজিক মাধ্যমে শিবিরের নেতা-কর্মীদের এ বক্তব্যের প্রতিবাদ দেখতাম।
বিষপাণে একপাল কুকুরছানা মেরে ফেললে বিষাদ আর অগ্নির ঝড় বয়ে যায় সোশাল মিডিয়ায় , একটা জলজ্যান্ত মানুষ “শিবিরের ছানা” মরলে সমাজের সিভিল সোসাইটি , মানবাধিকার নিয়ে হাঁসফাস করা মানুষগুলো টু শব্দটি পর্যন্ত করবে না।
শিবির প্রকাশ্যে আসুক , আমি খুব করে চাই। তার আগে সমাজ তাদের মানবাধিকার নিশ্চিত করুক। তাদের “হত্যাযোগ্য প্রাণ” থেকে মুক্তি দিক।”
