• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:৪৯ এএম


‘ছাত্রদলে ছাত্র নেই, সব বস্তির টোকা/ই’— খালেদা জিয়ার উদ্ধৃতি তুলে বক্তব্য রায়হান সিরাজীর

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৬ আগস্ট ২০২৬ ২:১২ পিএম

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার একটি বক্তব্য উদ্ধৃত করে রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী বলেছেন, “ম্যাডাম খালেদা জিয়া আক্ষেপ করে বলেছিলেন, ‘ছাত্রদলে ছাত্র নাই, সব বস্তির টোকাই।’ এটি আমাদের নিজস্ব কোনো বক্তব্য নয়, এটি বেগম খালেদা জিয়ারই বক্তব্য।”

বুধবার (৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই গণহত্যায় জড়িতদের বিচারের দাবিতে রংপুরের শাপলা চত্বরে আয়োজিত ১১ দলীয় ঐক্যের গণসমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বক্তব্যে রায়হান সিরাজী বলেন, ইংরেজি ক্যালেন্ডারে দিনটি ৫ আগস্ট হলেও তরুণ প্রজন্মের ক্যালেন্ডারে এটি ‘৩৬শে জুলাই’। তিনি বলেন, এই ৩৬শে জুলাই বর্তমান বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব কারাগার থেকে বেরিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলেছিলেন, “ছোট ছোট মাসুম বাচ্চারা আজ আমাদেরকে কারাগার থেকে মুক্ত করেছেন।”

তিনি দাবি করেন, দুই বছর পার হতে না হতেই সেই ‘মাসুম বাচ্চারাই’ এখন তাদের কাছে ‘বড় বেয়াদব’ হয়ে গেছে। এ ধরনের পরিবর্তন তরুণ প্রজন্ম দেখতে চায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নির্বাচন ও সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর সমালোচনা করে রায়হান সিরাজী বলেন, চারটি বিশ্ববিদ্যালয় ও একটি মাদ্রাসায় হঠাৎ করে ছাত্রলীগের প্রতিচ্ছবি জাতির সামনে ভেসে উঠেছে। তার দাবি, পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবির নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে ‘হোয়াইটওয়াশ’ করার পর থেকেই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটেছে।

তিনি আরও বলেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই প্রদর্শনী চলাকালে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা গিয়ে সাঈদী, নিজামী ও মুজাহিদের ছবি সরাতে বলেন। অথচ একসময় বেগম খালেদা জিয়া নিজেই ওই নেতাদের সঙ্গে সরকার পরিচালনা করেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

রায়হান সিরাজীর ভাষ্য, যদি তাদের বিচার অন্যায় হয়ে থাকে, তবে খালেদা জিয়ার মামলা কিংবা তারেক জিয়ার সাজাও জুলুম ছিল। তিনি বলেন, “আমরা স্পষ্ট বলি, ফ্যাসিবাদের আমলের সকল বিচারই ছিল বিচারের নামে জুলুম।”

তিনি আরও দাবি করেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি রংপুরের জনগণ তাদের ‘লালকার্ড’ দেখিয়েছে। তার ভাষ্য, ছাত্র-জনতার গণজোয়ার দেখে তারা সেদিন পালিয়ে গিয়েছিল এবং পরদিন সম্মেলন ডেকে টোকাইদের হাতে রামদা ও অস্ত্র তুলে দেওয়া হয়েছিল।

আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ও মতিউর রহমান নিজামীর ব্যানারে আঘাত করার ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, যারা আলেম-ওলামাদের ব্যানারে জুতা দিয়ে আঘাত করেছেন, তাদের লক্ষণ ভালো নয়। তিনি দাবি করেন, শাহবাগেও এমন ঘটনা দেখা গিয়েছিল, যার পরিণতিতে হেলিকপ্টারে করে পালিয়ে যেতে হয়েছিল। তিনি আলেম-ওলামা এবং সাঈদীকে নিয়ে বিদ্রূপ না করারও আহ্বান জানান।

গণসমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল।

মহানগর জামায়াতের আমির উপাধ্যক্ষ এটিএম আজম খানের সভাপতিত্বে এবং মহানগর সেক্রেটারি আনোয়ারুল হক কাজলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে ১১ দলীয় ঐক্যের জেলা ও মহানগর পর্যায়ের শীর্ষ নেতারাও বক্তব্য দেন।

/এসএন