• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:০৪ পিএম


পুলিশের ব্যারিকেড ভে/ঙ্গে হবিগঞ্জে পৌঁছে লিখিত অভি/যোগ দিলেন এনসিপি নেতারা

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৯ জুলাই ২০২৬ ১০:৩৫ পিএম

হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পদযাত্রা কর্মসূচিতে কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহরে হামলার অভিযোগে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছে। বুধবার (২৯ জুলাই) রাত ৮টার দিকে বাহুবল উপজেলার কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে অভিযোগটি জমা দেওয়া হয়।

বাহুবল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রুহুল আমিন তালুকদার অভিযোগ দাখিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

প্রতিনিধি দলে নাহিদ ইসলামের পাশাপাশি ছিলেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, ডা. মাহমুদা মিতু এবং সারোয়ার আলম।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে মৌলভীবাজার সার্কিট হাউস থেকে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের বহনকারী গাড়িবহর হবিগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হয়। বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে শায়েস্তাগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল সড়কের ‘চা-কন্যা’ ভাস্কর্য এলাকায় একটি ট্রাক আড়াআড়িভাবে রেখে এবং পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাদের পথরোধ করা হয়। এ সময় ব্যারিকেড সরানোকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে এনসিপি নেতাকর্মীদের বাগবিতণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।

একপর্যায়ে নেতাকর্মীরা পুলিশের ব্যারিকেড অতিক্রম করে গাড়িবহর নিয়ে সামনে এগিয়ে যান। তবে শ্রীমঙ্গল থেকে হবিগঞ্জে প্রবেশের পর বাহুবল উপজেলার কামাইছড়া এলাকায় পৌঁছালে বিকাল সোয়া ৫টার দিকে আবারও তাদের আটকে দেয় পুলিশ।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হবিগঞ্জ পৌরসভা মাঠে ঘোষিত বিক্ষোভ সমাবেশে যোগ দিতে যাওয়ার পথে বাহুবল উপজেলার কামাইছড়া এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে এনসিপির নেতাকর্মীদের গতিরোধ করা হয়। সম্ভাব্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রশাসন সেখানে সতর্ক অবস্থান নেয়।

পরে রশিদপুর গ্যাস ফিল্ড এলাকায়ও পুলিশের আরেকটি বাধার মুখে পড়ে এনসিপির গাড়িবহর। এ সময় নাহিদ ইসলামসহ দলের নেতাকর্মীরা গাড়ি থেকে নেমে সড়কে অবস্থান নেন। দীর্ঘ আলোচনার পর পুলিশ কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে অভিযোগ দাখিলের অনুমতি দিলে সেখানে বসেই অনলাইনে মামলার অভিযোগ জমা দেন তারা।

এনসিপির নেতাদের দাবি, আগের দিনের হামলার ঘটনায় তারা হবিগঞ্জ সদর থানায় মামলা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি থাকায় পুলিশ তাদের শহরে প্রবেশ করতে দেয়নি। পরে আলোচনার মাধ্যমে কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়ি থেকেই অনলাইনে অভিযোগ গ্রহণের ব্যবস্থা করা হয়।

অন্যদিকে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা কার্যকর থাকায় সভা-সমাবেশ, মিছিল এবং জনসমাগম নিষিদ্ধ রয়েছে। সম্ভাব্য সংঘর্ষ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় এনসিপির নেতাকর্মীদের জেলা শহরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। ঘটনাস্থলে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কয়েক দফা আলোচনা হয়। দীর্ঘ সময় অবস্থানের পর পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ থাকলেও সেখানে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য ও নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে পাল্টাপাল্টি রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য সংঘর্ষের আশঙ্কায় মঙ্গলবার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. জি. এম. সরফরাজ স্বাক্ষরিত গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বুধবার বিকাল ৩টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করা হয়।

এনসিপির অভিযোগ, মঙ্গলবার পদযাত্রা কর্মসূচি শেষে ফেরার পথে হবিগঞ্জ শহরে বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে দলের কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও এনসিপির মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে বুধবার সকাল থেকেই হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা কার্যকর করে প্রশাসন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ শহরের টাউন হলের সামনে পদযাত্রা শেষে ফেরার সময় এনসিপির নেতাদের বহনকারী গাড়িতে স্থানীয় ছাত্রদল নেতাকর্মীরা অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় সাংবাদিকদের কয়েকটি গাড়িও ভাঙচুর করা হয় এবং দলের কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন। হামলার সময় উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সোনালী ব্যাংকে আশ্রয় নেন। পরে পুলিশ তাদের সেখান থেকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। রাতটি তারা মৌলভীবাজারে অবস্থান করেন।

এরই মধ্যে বুধবার এনসিপি তাদের পূর্বঘোষিত মৌলভীবাজার জেলার দুটি ‘জুলাই পদযাত্রা’ সাময়িক স্থগিত করে হবিগঞ্জ শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের ঘোষণা দেয়। অন্যদিকে জেলা বিএনপি ও ছাত্রদলের পৃথক কর্মসূচির ঘোষণাকে কেন্দ্র করে শহরে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়।

/এসএন