• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:২৩ পিএম


জামায়াতের জোটে টানাপোড়েন, বিকল্প জোটের পথে এনসিপি?

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৯ জুলাই ২০২৬ ৪:৫১ পিএম

জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট ছাড়ার ভাবনায় এনসিপি, নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে গঠিত রাজনৈতিক জোটে ভাঙনের আভাস দেখা দিয়েছে। কয়েক দিন আগে খেলাফত মজলিস জোট ছাড়ার ঘোষণা দেওয়ার পর এবার জোটের অন্যতম শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নিজেদের অবস্থান পুনর্মূল্যায়ন করছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

সূত্রগুলোর দাবি, জোটে থেকে রাজনৈতিক লাভ-ক্ষতির বিষয়টি এনসিপির ভেতরে আলোচনা হচ্ছে। একই সঙ্গে কওমি ঘরানার ইসলামপন্থী দলগুলোর সঙ্গে নতুন রাজনৈতিক সমঝোতা এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে বিকল্প জোট গঠনের সম্ভাবনাও বিবেচনা করা হচ্ছে।

এনসিপির নেতাদের ভাষ্য, তাদের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য একটি বৃহৎ জাতীয় রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা। তাদের মতে, জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে থাকলে সে সুযোগ সীমিত হতে পারে। নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গড়ে উঠলে সেখানে নেতৃত্বের ভূমিকায় থাকার সুযোগ বেশি থাকবে বলেও তারা মনে করছেন।

গত ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ‘ওয়ান বক্স পলিসি’র আওতায় ইসলামপন্থী দলগুলোর ভোট একত্র করার লক্ষ্যে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ কয়েকটি দল জোট গঠন করে। পরে এনসিপি, এবি পার্টি ও এলডিপি এতে যোগ দিলে এটি ১১-দলীয় জোটে পরিণত হয়। তবে আসন সমঝোতা নিয়ে মতবিরোধের কারণে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নির্বাচন শুরুর আগেই জোট ত্যাগ করে। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে নেতৃত্ব, রাজনৈতিক কৌশল ও ভবিষ্যৎ কর্মসূচি নিয়ে শরিকদের মধ্যে দূরত্ব বাড়তে থাকে।

গত ২৫ জুলাই খেলাফত মজলিস জোট ছাড়ার ঘোষণা দেওয়ার পর পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হয়েছে। বর্তমানে এনসিপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে জামায়াতের সঙ্গে থাকা অথবা নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণে যুক্ত হওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা হচ্ছে।

দলীয় একাধিক সূত্রের দাবি, কওমি ঘরানার কয়েকটি ইসলামি দলের সঙ্গে এনসিপির শীর্ষ নেতাদের একাধিক অনানুষ্ঠানিক বৈঠক হয়েছে। এসব বৈঠকে সংস্কার, বিচার, স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং সম্ভাব্য রাজনৈতিক সমন্বয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। নতুন কোনো জোট গঠিত হলে সেখানে এনসিপির ভূমিকা কী হবে, সে বিষয়ও আলোচনায় এসেছে।

এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদের এক সদস্য জানিয়েছেন, জুলাই মাসের কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর দলটির সর্বোচ্চ নেতৃত্ব এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে প্রস্তুতি

জাতীয় নির্বাচনের পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংগঠনিক প্রস্তুতি জোরদার করেছে এনসিপি। দলটি ইতোমধ্যে পাঁচটি সিটি করপোরেশনে সম্ভাব্য মেয়রপ্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ পর্যায়েও প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ চলছে।

ঘোষিত তালিকা অনুযায়ী, ঢাকা দক্ষিণে দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং ঢাকা উত্তরে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীবকে সম্ভাব্য প্রার্থী করা হয়েছে। এছাড়া কুমিল্লা, রাজশাহী ও সিলেটেও সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে।

তবে দলীয় সূত্রের দাবি, নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হলে রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনের সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় পরিবর্তন আসতে পারে। সে ক্ষেত্রে আসিফ মাহমুদকে ঢাকা উত্তর এবং নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে ঢাকা দক্ষিণে প্রার্থী করার বিষয়েও আলোচনা রয়েছে।

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি নিয়ে দলের ভেতরে ও বাইরে আলোচনা চলছে। সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তারা জোটগত অবস্থানের পক্ষেই রয়েছেন।

কওমি দলগুলোর নতুন উদ্যোগ

এদিকে ইসলামপন্থী রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। গত ১৬ জুলাই চট্টগ্রামের বাবুনগর মাদ্রাসায় সাতটি ইসলামি দলের শীর্ষ নেতাদের অংশগ্রহণে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ঐক্য, স্থানীয় সরকার নির্বাচন এবং জাতীয় নির্বাচন নিয়ে সমন্বয়ের বিষয় আলোচনা হয়।

বৈঠকে অংশ নেওয়া সূত্রগুলোর দাবি, সংশ্লিষ্ট দলগুলোকে আগামী ৩ আগস্টের মধ্যে লিখিতভাবে মতামত ও প্রস্তাব জমা দিতে বলা হয়েছে। এরপর সম্ভাব্য নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের কাঠামো, নেতৃত্ব ও কর্মসূচি নিয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ বলেন, এনসিপির নেতাদের সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা হয়েছে। তবে তারা নতুন উদ্যোগে যুক্ত হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, জোটের ভেতরে কোনো সমস্যা থাকলে তা আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করা হবে। এনসিপির রাজনৈতিক তৎপরতা তাদের নিজস্ব বিষয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের সময় জাতীয় পর্যায়ে সমঝোতা হয়েছিল, তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বাস্তবতা ভিন্ন এবং প্রয়োজন হলে সমঝোতা স্থানীয় পর্যায়েই হবে।

/এএসএফ