ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক ভিপি সাদিক কায়েম বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এমন তথ্য সঠিক নয় বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বলছে, জামায়াতের আমিরের সঙ্গে সাদিক কায়েমের একটি ছবিকে কেন্দ্র করেই এই বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে তিনি কেবল ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী ছাত্ররাজনীতি থেকে বিদায় নিয়েছেন।
সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সাদিক কায়েমের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। এরপর বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয় যে, তিনি জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন এবং ভবিষ্যতে কোনো একটি সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে নির্বাচনও করতে পারেন।
তবে এসব তথ্যের সত্যতা নাকচ করে দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। তিনি বলেন, সাদিক কায়েমের জামায়াতে যোগদানের খবরটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ছাত্রশিবিরের একটি অনুষ্ঠানে জামায়াতের আমির উপস্থিত ছিলেন এবং সেই সময় তোলা একটি ছবিকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে এই গুঞ্জন ছড়ানো হয়েছে।
এর আগে গত ১২ জুলাই বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক পোস্টে ছাত্ররাজনীতি থেকে বিদায় নেওয়ার ঘোষণা দেন সাদিক কায়েম। তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
ফেসবুক পোস্টে সাদিক কায়েম লিখেছেন, ‘দেখতে দেখতে দীর্ঘ এক সোনালি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। সংগঠনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইসলামী ছাত্রশিবির থেকে আজ আমার আনুষ্ঠানিক ছুটি হয়েছে।’ পাশাপাশি জীবনের সবচেয়ে সুন্দর ও সৃষ্টিশীল সময়গুলো এই সংগঠনের সঙ্গে কাটানোর সুযোগ দেওয়ায় তিনি আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ছাত্রশিবিরের সংবিধান অনুযায়ী নির্ধারিত বয়সসীমা অতিক্রম করা বা ছাত্রত্ব শেষ হলে সদস্যদের আনুষ্ঠানিকভাবে সংগঠন থেকে বিদায় দেওয়া হয়। সাদিক কায়েমের ক্ষেত্রেও সেই নিয়মিত সাংগঠনিক প্রক্রিয়াই অনুসরণ করা হয়েছে।
তবে ছাত্রশিবির থেকে বিদায়ের পরপরই জামায়াতের আমিরের সঙ্গে তার ছবি প্রকাশিত হওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা জল্পনা-কল্পনার সৃষ্টি হয়। পরে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়, সাদিক কায়েমের দলটিতে যোগদানের খবরের কোনো ভিত্তি নেই।
/এসএন