ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকায় সন্ত্রাস ও অপরাধসংক্রান্ত সমস্যা একদিনে বা রাতারাতি সমাধান করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, ওই এলাকায় মাদক ও জুয়ার প্রভাব তুলনামূলক বেশি থাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি বিদ্যমান আইনের কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে গ্রেপ্তার হওয়া অপরাধীদের দীর্ঘ সময় কারাগারে রাখা সম্ভব হচ্ছে না।
মঙ্গলবার (২ জুন) সচিবালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে আধুনিক ও সময়োপযোগী আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তার মতে, বিদ্যমান আইনের দুর্বলতাগুলো দূর করা গেলে অপরাধ দমনে আরও ইতিবাচক ফল পাওয়া সম্ভব হবে।
সংবাদ সম্মেলনে শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রসঙ্গেও কথা বলেন তিনি। এ বিষয়ে তিনি বলেন, এটি আদালতের বিচারাধীন বিষয় হওয়ায় তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করতে চান না। তবে বিচারকাজ যাতে দ্রুত শেষ হয়, সে লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
আদ-দ্বীন হাসপাতালে নবজাতকদের মৃত্যুর ঘটনাও তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, হাসপাতালের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) গ্যাসসংক্রান্ত সমস্যার কারণে শ্বাসকষ্টের ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে পুলিশের তদন্ত চলছে এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।
ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের যানজট পরিস্থিতি নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাজধানীতে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার ইতোমধ্যে ভালো ফল দিচ্ছে। এ প্রযুক্তির সফলতার ভিত্তিতে দেশের অন্যান্য শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও পয়েন্টগুলোতেও যান্ত্রিক অটোমেশন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে যানজট পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সীমান্ত পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, অবৈধভাবে মানুষকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার (পুশব্যাক) যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে সরকার অবস্থান নিয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তবে কোনো বাংলাদেশি নাগরিক বিদেশে অবৈধভাবে অবস্থান করলে সে বিষয়ে সরকার প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ব্যবস্থা নেবে।
মোহাম্মদপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে পুনরায় মন্তব্য করতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সেখানে মাদক ও জুয়ার বিস্তার অপরাধ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। এসব সমস্যা দূর করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং আধুনিক আইনি কাঠামোর প্রয়োজন রয়েছে।
/এসএন