• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬, ০৫:১৩ এএম


রামিসার শ্রেণিকক্ষে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন বাবা, কাঁদল সহপাঠীরা

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২১ মে ২০২৬ ৭:৪২ পিএম

রাজধানীর মিরপুরের পপুলার মডেল স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল রামিসা। বৃহস্পতিবার (২১ মে) মেয়ের শ্রেণিকক্ষে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন রামিসার বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা। সহপাঠীদের সামনে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং শিশুদের জড়িয়ে ধরে অঝোরে কাঁদতে থাকেন। এ সময় রামিসার সহপাঠীরাও কান্নায় ভেঙে পড়ে।

শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত শিশুরা একে অপরকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছিল। কিন্তু শোক আর কান্না যেন কোনোভাবেই থামছিল না। কান্নাজড়িত কণ্ঠে রামিসার সহপাঠীরা বলে, রামিসাকে কখনো ভোলা যাবে না। তারা এ হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করে এবং খুনির যেন কোনোভাবেই রেহাই না হয়, সেই আহ্বান জানায়।

এদিকে রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। এমন নৃশংস ঘটনার বিচারের দাবিতে রাজপথে নেমেছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর পল্লবীতে রামিসার বাসার সামনে বিক্ষোভ করেন তার সহপাঠী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। এ সময় তারা দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এলাকাবাসী ও সহপাঠীরা পল্লবী থানার সামনে গিয়ে বিক্ষোভ করছেন। একপর্যায়ে তারা থানার ভেতরেও প্রবেশ করেন। বিক্ষোভকারীরা রামিসা হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি সোহেল রানাকে কারাগারে না রেখে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে ফাঁসির দাবি জানান।

এ ছাড়া হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর উত্তরের মহিলা বিভাগ। কর্মসূচিতে বক্তারা রামিসা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত ফাঁসির কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর দাবি জানান।

রাজধানীর বাইরেও দেশের বিভিন্ন এলাকায় শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন সর্বস্তরের মানুষ।

গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে মিরপুরের পল্লবীর একটি ফ্ল্যাটের খাটের নিচ থেকে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে বাথরুম থেকে উদ্ধার করা হয় তার খণ্ডিত মাথা। এ ঘটনায় পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়।

ঘটনার পর প্রথমে প্রধান আসামি সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আটক করা হয়। পরে পুলিশ সোহেল রানাকে গ্রেফতার করে। এরপর শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন সোহেল রানা।