• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ০২:৩৫ পিএম


মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা, ভিডিও বার্তায় শিক্ষক বললেন আমি কিছুই জানি না

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৫ মে ২০২৬ ৩:৫৫ পিএম

নেত্রকোণার মদন উপজেলায় ১২ বছর বয়সী এক মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট মাদরাসার পরিচালক ও শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুটি বর্তমানে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত শিক্ষক আত্মগোপনে রয়েছেন। তবে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তা দিয়ে নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করেছেন।

মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা পরিবার ছেড়ে চলে যাওয়ার পর তার মা সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন। এ অবস্থায় শিশুটি তার নানির কাছে থেকে স্থানীয় একটি মহিলা কওমি মাদরাসায় পড়াশোনা করছিল।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে মাদরাসার পরিচালক আমান উল্লাহ সাগর শিশুটিকে ধর্ষণ করেন এবং বিষয়টি গোপন রাখতে প্রাণনাশের হুমকি দেন। সম্প্রতি শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন দেখে পরিবারের সন্দেহ হলে তাকে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়। পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায়, শিশুটি সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

এরপর বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় শিশুটির মা বাদী হয়ে মদন থানায় মামলা দায়ের করেন।

এদিকে গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে থাকা অভিযুক্ত শিক্ষক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেছেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, এ ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং তিনি কিছুই জানেন না। তিনি বলেন, মেয়েটি অনিয়মিতভাবে মাদরাসায় যেত এবং তার আচরণ ও চলাফেরা নিয়ে প্রশ্ন ছিল। এছাড়া মেয়েটি তার নানার সঙ্গে থাকত এবং প্রায় পাঁচ থেকে ছয় মাস আগে মাদরাসা ছেড়ে চলে যায় বলেও তিনি উল্লেখ করেন। প্রকৃত অপরাধী শনাক্তে ডিএনএ পরীক্ষা ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান তিনি।

শিশুটির শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. সায়মা আক্তার। তিনি জানান, শিশুটি মারাত্মক রক্তশূন্যতায় ভুগছে। জীবনের প্রথম ঋতুস্রাব শুরু হওয়ার আগেই সে গর্ভবতী হয়ে পড়েছে, যা তার শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, এ ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে এবং অভিযুক্ত শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে। আইন অনুযায়ী দ্রুত পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

জানা গেছে, গত ১৮ এপ্রিল থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক মাদরাসায় অনুপস্থিত রয়েছেন। এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসী সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। /এইচটি