• ঢাকা
  • বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১০ পিএম


ওমরাহর স্বপ্ন নিয়ে সৌদি আরবে, রিয়াদ বিমানবন্দরে প্রাণ গেল বাংলাদেশি আলেমের

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ৯:৩২ এএম

‘জীবনের সেরা সফর’ লিখে পোস্ট, রিয়াদ বিমানবন্দরে প্রাণ হারালেন মুফতি নাসরুল্লাহ

মানুষের জীবনে কিছু স্বপ্ন থাকে, যা পূরণের অপেক্ষায় দীর্ঘদিন কাটে। তেমনই একটি স্বপ্ন ছিল হাফেজ মুফতি মুহাম্মাদ নাসরুল্লাহ বদরের। পবিত্র ওমরাহ পালনকে তিনি বলতেন জীবনের সেরা স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন পূরণ করতে ৪৫ জনের একটি কাফেলার নেতৃত্ব দিয়ে বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু স্বপ্নের সফর আর পূর্ণতা পায়নি। রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় প্রাণ হারানোর খবরটি তাঁর পরিবার ও স্বজনদের জন্য নিয়ে এসেছে গভীর শোক।

মাত্র ৩৫ বছর বয়সী এই আলেম ঢাকার কামরাঙ্গীরচর জামিয়া আরাবিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসার সহকারী মুহতামিম ও শিক্ষাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। তিনি কুমিল্লার বাসিন্দা ছিলেন।

দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে ২০২৬ সালের ১০ অক্টোবর শনিবার তিনি ওমরাহ পালনের উদ্দেশে সৌদি আরবের পথে যাত্রা করেন। বিমানে ওঠার আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের আনন্দের কথা প্রকাশ করেন। বাংলাদেশ ছাড়ার আগে তিনি লিখেছিলেন, ‘গুডবাই প্রিয় বাংলাদেশ, আল্লাহ চাহেতো আবারো দেখা হবে ইনশাআল্লাহ।’

ওমরাহকে ঘিরে তাঁর উচ্ছ্বাস ছিল স্পষ্ট। জীবনের সেরা সফর হিসেবে বর্ণনা করা সেই যাত্রা নিয়ে তাঁর প্রত্যাশা ছিল অনেক।

নিরাপদে পৌঁছানোর আনন্দঘন পোস্ট

সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপদে পৌঁছানোর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরেকটি পোস্ট দেন মুফতি নাসরুল্লাহ। সেখানে তিনি লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ! আমাদের কাফেলা নিরাপদে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। জীবনের সেরা সফরের পথে প্রতিটি মুহূর্ত কাটুক মহান রবের অশেষ রহমত ও মেহেরবানিতে। আজকের জোহরের সালাতও এখানেই। বাকি সফরটুকুও যেন নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন হয়।’

পোস্টটিতে ছিল দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণের আনন্দ এবং সামনের পথ নিরাপদে পাড়ি দেওয়ার প্রত্যাশা। কিন্তু তখনো কেউ জানতেন না, সেই বিমানবন্দরেই তাঁদের জন্য অপেক্ষা করছে ভয়াবহ বিপর্যয়।

সংযোগ ফ্লাইটের অপেক্ষায় ঘটে প্রাণহানির ঘটনা

প্রাপ্ত বিবরণ অনুযায়ী, রিয়াদ থেকে জেদ্দাগামী সংযোগ ফ্লাইটে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন কাফেলার সদস্যরা। বোর্ডিং পাস সংগ্রহ ও ইমিগ্রেশনের লাইনে অপেক্ষা করার সময় স্থানীয় সময় বিকেল প্রায় ৩টার দিকে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্রটি বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৩ ও ৪-এর এলাকায় আঘাত হানে বলে দাবি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় হাফেজ মুফতি নাসরুল্লাহসহ মোট ১২ জন নিহত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে সৌদি আরবের চারজন, বাংলাদেশের দুজন—নাসরুল্লাহ ও বগুড়ার শাহেদ আহম্মেদ—এবং যুক্তরাষ্ট্র, মিসর, জর্ডান, সিরিয়া, ফিলিস্তিন ও সুদানের একজন করে নাগরিক ছিলেন বলে উল্লেখ রয়েছে। এ ছাড়া আহত হয়েছেন ৩০৯ জন।

তবে হামলার সময়, হতাহতের সংখ্যা এবং ঘটনার বিস্তারিত তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।

অসমাপ্ত থেকে গেল ওমরাহর স্বপ্ন

মুফতি নাসরুল্লাহর যাত্রা শুরু হয়েছিল পবিত্র ওমরাহ পালনের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে। বাংলাদেশ ছাড়ার আগে বিদায়ের বার্তা, রিয়াদে পৌঁছে নিরাপদে অবতরণের আনন্দ প্রকাশ—সবকিছুই ছিল তাঁর স্বপ্নপূরণের গল্পের অংশ। কিন্তু সেই সফর আর কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেনি বলে বর্ণনায় উঠে এসেছে।

একজন আলেম হিসেবে মাদ্রাসায় দায়িত্ব পালন করা নাসরুল্লাহর এই আকস্মিক মৃত্যুর খবরে তাঁর স্বজনদের জন্য থেকে গেছে অপূরণীয় শোক। যে সফরকে তিনি জীবনের সেরা যাত্রা বলেছিলেন, সেটিই শেষ পর্যন্ত পরিণত হয়েছে এক বেদনাবিধুর স্মৃতিতে।

/এএসএফ